আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সরকার আইনগত দিকগুলো ভালোভাবে খতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে দলটি ধর্মের মুখোশ পরা সাম্প্রদায়িক অপশক্তি এবং বিভিন্ন সময়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ও গোপনে অপতৎপরতা, নাশকতা, ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ রয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের যৌথসভায় কাদের আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে আইনগত ফাঁকফোকর থাকলে তা পূরণ বা বন্ধ করা হবে যাতে স্বাধীন বাংলাদেশে এ অপশক্তি আর কোনো সুযোগ না পায়। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশে দলের নিবন্ধনবিহীনতা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার এটি বাস্তবায়ন করবে।
আইনগত প্রক্রিয়া ও সরকারের চরিত্রভাগ
কাদের বলেন, এখন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে সরকার; সেটার প্রক্রিয়া কী হবে সেটা আইনগত দিক দেখে-শুনে সরকার শিগগির পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। তিনি তুলে ধরেছেন যে হাইকোর্টের মাধ্যমে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের রায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত বহাল রেখেছে এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আইনের নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন না থাকলে কোনো দল নির্বাচন করতে পারে না—এ ধরনের নজির বিভিন্ন দেশে আছে বলে তিনি উদাহরণও দিয়েছেন।
বৈঠক ও বক্তব্য
সোমবার গণভবনে ১৪ দলের বৈঠকে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কাদের গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বৈঠকে নেতারা তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জামায়াতের অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন আদালতের রায় বিবেচনা করে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তিনি আরও জানান যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা ও নাগরিক সমাজ এ দাবি করে আসছে।
‘দলীয়ভাবে পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। গুজব ও আতঙ্ক সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। তাদের তথ্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে জানাতে হবে।’
নিরাপত্তা, গ্রেফতার এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
কাদের বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, সরকার অসহায় শিক্ষার্থীদের আটক ও নির্যাতন করছে—এমন দাবি তিনি নির্লজ্জ মিথ্যাচার বলে আখ্যায়িত করেন। কাদের বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধীদের চিহ্নিত করছে এবং জানামতে কোনো নিরাপরাধ ব্যক্তিকে আটক করা হচ্ছে না। তিনি সরকারের নির্দেশনায় নিরীহ ও সাধারণ শিক্ষার্থী যাতে হয়রানির শিকার না হন তা নিশ্চিত করার কাজ চলছে।
সভায় কাদের জেলা-উপজেলা-থানা-ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতাকর্মীদের পরিস্থিতিতে কারফিউ মেনে চলার আহ্বান জানান এবং দলের মধ্যে সতর্কতা ও রিপোর্টিং ব্যবস্থার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, দলের আচরণে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে হবে এবং গণগ্রেফতারের নামে কোনো নিরাপরাধকে হয়রানি করা যাবে না।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা
সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর কয়েকজন সদস্য এবং কেন্দ্রীয় নেতারা। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নামজারি ছিল, যারা দলের কার্যনির্বাহী ও সংগঠনের বিভিন্ন দায়িত্বে রয়েছেন।
জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত এবং তা বাস্তবায়নের আইনগত পথ সম্পর্কে কাদেরের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার শিগগির পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে—এটাই সেই বৈঠকের সারমর্ম।