বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষের পর সরকারের জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত এক ধরনের ইস্যু পরিবর্তনের অপকৌশল। তিনি আগস্টের শেষের ওই পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) বিকেলে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন এবং অবিলম্বে কারফিউ প্রত্যাহার করে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকায় ফিরে যেতে বলেন।

কী বলেছেন ফখরুল

ফখরুল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রে গ্রহণযোগ্যতা রাখে এবং যারা এখানে রাজনীতি করে তাদের রাজনীতির অধিকার আছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকারের আলাদা যুক্তি থাকতে পারে কিন্তু কেন এত দিন এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি এবং কেন এখন নেয়া হয়েছে — এসব প্রশ্নের উত্তর থাকা উচিত। তিনি বলেন, যারা স্বৈরাচারী, যাদের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক নেই, তারা বিভিন্ন সময়ে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

কোটা আন্দোলন, নির্যাতন ও দায়-দায়িত্ব

বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির ফলে ছাত্রদের মধ্যে শহীদ হয়েছেন এবং তাদের পরিবারের দুর্দশা গভীর। তিনি রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করেন, ‘‘কেন তার প্রাণ গেলো? কী উত্তর দেবে?’’ তিনি বলেন, প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং এ দায় সরকারকে নিতে হবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংকট রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করতে হবে এবং হাইকোর্টের মন্তব্যগুলোও তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারি সিদ্ধান্ত ও সরকারের প্রতিক্রিয়া

সংবাদ সম্মেলনে এবং পরে চলে আসা প্রাসঙ্গিক তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে জামায়াতের অতীত ও বিভিন্ন সময়ের আদালতের রায় বিশ্লেষণ করে তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আইনমন্ত্রী পরে জানালেন সরকার নির্বাহী আদেশে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি বন্ধ করেছে। ফখরুল এসব সিদ্ধান্তকে সমর্থন না জানিয়ে তা নীতি পরিবর্তন ও দিক পরিবর্তনের চেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

দাবি, অভিযোগ ও অন্যান্য বিষয়

তিনি দাবি করেন, দেশের জঙ্গিবাদের বড় পৃষ্ঠপোষক বর্তমান সরকার তথা আওয়ামী লীগ এবং সরকার পরিকল্পিতভাবে জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলে তিনি অভিহিত করেন। ফখরুল আরও বলেন, ঘটনার কিছু অংশকে তিনি গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, “এই যে ঘটনাবলি ঘটে গেছে, মানুষের প্রাণ গেছে এটাকে আমরা গণহত্যা বলি।” তিনি বলেন, এই গণহত্যার তদন্ত জাতিসংঘের মাধ্যমে হওয়া উচিত কারণ সরকারের তদন্তে তারা বিশ্বাস করেন না।

“এই যে ঘটনাবলি ঘটে গেছে, মানুষের প্রাণ গেছে এটাকে আমরা গণহত্যা বলি।”

ফখরুল ডিবির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘‘খাবারের নাটক’’ করে আন্দোলনকারীদের ওপর চাপ তৈরি করার অভিযোগ তুলেছেন এবং একই সঙ্গে গ্রেফতার শিক্ষার্থীদের মুক্তি, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি ও সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিএনপি কোটা সংস্কার আন্দোলনকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে এবং আন্দোলনকারীরা তাদের চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাধারণ বিবরণ ও উপস্থাপিত দাবি-অভিযোগগুলোই এখানে উল্লেখ করা হলো।