বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের এমপি বলেছেন, দেশের মানুষ প্রতিটি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সে অনুযায়ী বিচার চায়। তিনি মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সেবাসমূহ দ্রুত পুনরায় চালুর দাবি জানান এবং ইন্টারনেট পরিষেবা পূর্ণাঙ্গভাবে খোলার ওপর জোর দিয়েছেন। এসব দাবি তিনি মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) এক বিবৃতিতে উত্থাপন করেন।

মূল দাবি

বিবৃতিতে জিএম কাদের প্রধানত নিম্নোক্ত বিষয়ে সরকারের কাছে দাবি জানান:

  • প্রতিটি নিহতের ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে তদনুযায়ী বিচারের নিশ্চিত করা।
  • ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি চালু করা, যাতে সাধারণ মানুষ ও বিদেশে থাকা পরিজনরা স্বাভাবিক যোগাযোগে সক্ষম হন।
  • ক্ষতিগ্রস্ত স্টেশন বন্ধ রেখে মেট্রোরেল দ্রুত পুনরায় চালু করা এবং প্রয়োজন হলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে তে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টোল আদায়ের মাধ্যমে যান চলাচল পুনঃস্থাপন করা।

পরিস্থিতি বর্ণনা ও প্রস্তাবনা

জিএম কাদের বলেন, ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি চালু না থাকায় সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশ করতে পারছে না এবং তথ্য আদান-প্রদান মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রবাসীরা তাদের স্বজনদের খোঁজ-খবর নিতে পারছেন না এবং এতে কিছু প্রবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে প্রবাসী আয় পাঠানো নাও করার হুমকি দিচ্ছে বলে দৃশ্যমান প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশ গমনেচ্ছু ছাত্ররা বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না।

মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক আন্দোলনে মেট্রোরেলের “দুই-একটি স্টেশন” ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের “দুই-একটি টোল প্লাজা” ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা যায়। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে মেট্রোরেলের ইঞ্জিন, বগি ও লাইনের কোনো ক্ষতি হয়নি, এবং মূল অবকাঠামোর ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সেজন্য ক্ষতিগ্রস্ত স্টেশনগুলো বন্ধ রেখে বাকি অংশগুলো চালু করার মাধ্যমে জনসাধারণের সুবিধা দ্রুত পুনরুদ্ধার করা যায় বলে তার মত। প্রয়োজনে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টোল আদায়ের ব্যবস্থা করে যান চলাচল শুরু করার প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অজুহাতে মানুষের গুরুত্বপূর্ণ সেবা বন্ধ রেখে মানুষকে কষ্ট দেয়া উচিত নয়, কারণ এসব সেবা সাধারণ মানুষের অর্থে তাদের সেবার জন্যই নির্মিত। তিনি সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে যথাসম্ভব দ্রুত এসব সেবা পুনরায় চালুর দাবি করেন।

বিবৃতিতে জিএম কাদের বলছেন, মানুষ প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যা করা যেন না ঘটে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।