ময়মনসিংহে নির্মাণাধীন কেওয়াটখালী স্টিল আর্চ সেতুর সংযোগ সড়কের নকশায় পরিবর্তন আনা নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং তা দুর্নীতির ঘটনা বলে দাবি করেছেন। তারা বলছেন, স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সমঝোতা না করে তড়িঘড়ি করে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার মাধ্যমে প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা লুটপাট নিশ্চিত করতে একটি চক্র কাজ করছে বলে তাদের অভিযোগ। এসব অভিযোগ শনিবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।

নকশা পরিবর্তন ও সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ

অভিযোগ অনুযায়ী, সেতু প্রকল্পের নকশায় পরিবর্তন এনে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ সড়কটি বাঁকা করে নেওয়ায় সেতুটির সৌন্দর্য নষ্ট হবে এবং ব্যয় বাড়বে। নকশা পরিবর্তনের ফলে সংযোগ সড়কটি ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও শতাধিক মিল-কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, ত্রুটিপূর্ণ এই নকশা ভূমি অধিগ্রহণ কেন্দ্রিক লুটপাটের সুযোগ তৈরি করছে।

প্রকল্পের পরিসংখ্যান

এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা। ময়মনসিংহ ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর অস্ট্রেলিয়ার সিডনি হারবার ব্রিজের আদলে কেওয়াটখালী সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। শহরের বাইপাস থেকে শম্ভূগঞ্জ পর্যন্ত ৬ দশমিক ২০ কিলোমিটারের মধ্যে নদের উপর সেতুটি নির্মিত হবে। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য এক হাজার ১০০ মিটার; এর মধ্যে আর্চ স্টিলের অংশ থাকবে ৩২০ মিটার এবং সেতুর দু-পাশের সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য ৫ দশমিক ১ কিলোমিটার। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর প্রকল্পটি পরিচালনা করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ ও দাবি

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, ভূমি অধিগ্রহণ চক্রের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সহযোগিতা করে মাত্রাতিরিক্ত অপচয় করা হচ্ছে। অভিযোগে নাম রয়েছে বিদায়ী প্রকল্প পরিচালক নূরে আলম, সদ্য বিদায়ী জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মাহফুজুল হক এবং বিদায়ী ও বর্তমান প্রজেক্ট ম্যানেজার যথাক্রমে নূরে আলম ও দিদারুল আলমের। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, লাখ টাকার সম্পদ-স্থাপনাকে কয়েক কোটি টাকা মূল্য নির্ধারণের নকশা আঁকাআঁকির অপকর্ম যেন প্রকাশ্যেই চালানো হচ্ছে।

  • এক অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
  • সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মোশাররফ হোসেন, মনজুরুল হক, আব্দুল মালেক ও হেলাল উদ্দিন।

স্থানীয়রা অবিলম্বে সংযোগ সড়কের ত্রুটিপূর্ণ নকশা সংশোধন করে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সমঝোতা করার দাবি জানান। তারা আশঙ্কা ব্যক্ত করেন, বর্তমান নকশায় প্রকল্পটি জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসা এসব অভিযোগ ও দাবি ছাড়াও প্রকল্পের প্রযুক্তিগত বিবরণ এবং ব্যয়ের পরিমাপ সংক্রান্ত তথ্যগুলো প্রাসঙ্গিক ভাবে পরিচিত করা হয়েছে। স্থানীয়রা নকশা সংশোধন না হলে পরবর্তী সময়ে উন্নয়ন কার্যক্রম ও ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে আরও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে বলেও জানান তারা।