বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে সব নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে এবং সব ধর্মের মানুষ সমান মর্যাদা পাবে। তিনি বলেন, তিনি চান বাংলাদেশে “সংখ্যালঘু” বা “সংখ্যালঘুর” ধারণাটি বিলোপিত হোক এবং সবাইকে সমান হিসেবে গৃহীত করা হোক।
মন্দির পরিদর্শন ও মতবিনিময়
সোমবার (১৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে তিনটায় রাজধানীতে মন্দির পরিদর্শন শেষে পূজা কমিটি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের পুরোহিত এবং নেতাদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় ডা. শফিকুর রহমান এসব মন্তব্য করেন। সভায় তিনি দেশের নাগরিকবর্গকে সমানভাবে অধিকারভোগী হিসেবে দেখার বার্তা দিয়েছেন এবং সংবিধানিক অধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
বক্তব্যের মূল বিষয়
জামায়াত আমির বলেন, প্রথম পরিচয় হিসেবে সবাই মানুষ এবং দ্বিতীয় পরিচয় হিসেবে সবাই বাংলাদেশি। তিনি বলেন, একজন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশের সংবিধান যে অধিকার দিয়েছে, সকল ধর্মের নাগরিক স্বতন্ত্র ব্যক্তি হিসেবে সমানভাবে তা ভোগ করবে। তিনি এটাও বলেন যে তিনি এখানকার সংখ্যাগুরু এবং সংখ্যালঘু কথাটির কবর রচনা করতে চান।
“আমি চাই এখানে (বাংলাদেশে) সংখ্যাগুরু এবং সংখ্যালঘু কথাটির কবর রচনা হোক।”
এছাড়া তিনি বলেন, মেধা-যোগ্যতার ভিত্তিতে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণ সমাজই দায়িত্ব পালন করবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো কিছুর ওপর ভিত্তিক ব্যবধান বরদাশত করা হবে না। তিনি দলের কর্মীদের সততার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, এমন কোনো অসমতা বা দুর্বৃত্তায়নকে তারা প্রশ্রয় দেবে না এবং তাই কাউকে বহিষ্কার করার প্রয়োজন হয় না।
রাজনীতি ও মানসিকতা সম্পর্কে নির্দেশনা
জামায়াত আমির সভায় বলছেন, রাজনীতিতে আসার সময় একজনকে রাজকীয় মন নিয়ে আসার আহ্বান করা উচিত; রাজনীতিতে ফকিরের মন নয় বরং সম্মানের মন প্রয়োজন। তিনি মনে করান যে রাজনীতি করলে সবাইকে ধারণ করতে হবে, আত্মাকে বাদ দিয়ে বাকিদের শ্রদ্ধা করতে হবে এবং সবাইকে ভালোবাসতে হবে। রাজনীতিতে লুটপাট ও স্বার্থসিদ্ধিকরণকে তাঁর তীব্র নিন্দা ছিলো।
সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহনশীলতা
তিনি বলেছেন যে কোনো ধর্ম কোনো মানুষকে দুর্বৃত্ত বানায় না এবং হিংসা-প্রতিহিংসা শেখায় না; ধর্ম মানুষকে পরিশীলিত করে এবং মনুষ্যত্ব ফিরিয়ে আনে। তিনি সকল সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে অনুরোধ করেছেন একে-অপরকে ভাই এবং বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে, যার ফলে হিংসা ও হানাহানি কমে যাবে এবং শেষপর্যন্ত ব্যক্তিগত বিবেকই মানুষকে সংগঠিত রাখবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন
- মন্দির কমিটির সভাপতি বাবু তপনেন্দ্র নারায়ণ হোড় (সভাপତিত্ব)
- বাবু হরিপদ দাস দোলন (সঞ্চালক)
- জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন
- শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি লস্কর মুহাম্মদ তাসলিম
- হিন্দু সম্প্রদায়ের বক্তারা: বাবু মনোজ সরকার, বাবু শিব শংকর সাহা, নিথীশ কুমার সাহা, ডাক্তার বিপ্লব
- জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা ও অন্যান্য নেতারা
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক মু. আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ।
মতবিনিময় এবং উপস্থিত নেতাদের বক্তব্যে ধর্মীয় সহনশীলতা, সংবিধান অনুযায়ী সমানাধিকার ও সম্প্রদায়কেন্দ্রিক সহমর্মিতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।