বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হলে প্রয়োজনে আবারও আন্দোলন করা হবে। বুধবার (২৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রজন্ম একাডেমি আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই কথা বলেন।
অবস্থান কর্মসূচি ও বক্তব্যের সারমর্ম
ফারুক বলেন, বিভিন্ন সংগঠনের দাবি-দাওয়ার নাম ধরে বেনামে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হচ্ছে, তা প্রতিরোধ করা হবে। তিনি সরকারের নীতির পাশাপাশি প্রতিবেশি দেশের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন এবং বলেন, “ভারত বাংলাদেশের মানুষকে গোলামির জিঞ্জিরে আবদ্ধ করতে চায়, কিন্তু সেই সুযোগ ভারত আর পাবে না।”
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী দুঃশাসন এবং ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জনগণ এখন সোচ্চার এবং আন্দোলন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত। বক্তব্যের এক অংশে তিনি ইতিহাস এবং রাজনৈতিক প্রয়োগের প্রসঙ্গে ২০১৭ সালের ঘটনাবলী উল্লেখ করে বলেন, যদি ওই সময়ে নির্দিষ্ট সহায়তা না থাকত তাহলে নির্দিষ্ট ব্যক্তি অবৈধভাবে নির্বাচন করে সফল হতে পারতেন না।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বর্তমান সরকারের প্রসঙ্গ
ফারুক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ৮৪ বছর বয়সেও কোর্টের ৬ তলায় উঠিয়েছেন এবং সীমাহীন কষ্ট দিয়েছেন; এর মাধ্যমে তিনি বর্তমান শাসন ব্যবস্থার আচরণ তুলে ধরেন। তিনি এটাও বলেন যে, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র ২০ দিন; ১৬ বছরের যে জঞ্জাল সেটা এত অল্প সময়ে পুরোপুরি কাটানো সম্ভব নয়।
“দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবেন না, চেষ্টা করলেও পারবেন না। আমাদের এখন এগিয়ে যাবার সময়।”
সমসাময়িক আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে ফারুক বলেন, ১৬ বছর আপনি কোথায় ছিলেন, দাবি আদায়ের জন্য আপনাদের সময় দিতে হবে এবং ধৈর্য ধারণ করতে হবে। তিনি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সহায়তা করার জন্য আশা প্রকাশ করেন এবং বলেন যে তিনি দ্রুত বিপদ থেকে মুক্তি দিয়ে দেশের মর্যাদা উন্নীত করতে পারবেন বলে তাঁর বিশ্বাস রয়েছে।
অনুষ্ঠান ও অংশগ্রহণকারীরা
অনুষ্ঠানটি প্রজন্ম একাডেমি’র সভাপতি লেখক ও গবেষক কালাম ফয়েজীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোজাম্মেল হোসেন শাহীন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাগপা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর আহমেদ এবং বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আলমগীর হোসেন।
ফারুকের বক্তব্যের মূল সারকথা ছিল—যদি দেশের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা হয়, জনগণ প্রয়োজনে রাস্তায় নামবে; একই সঙ্গে সরকার এবং প্রতিবেশি রাষ্ট্রের নীতির বিরুদ্ধে সজাগ থাকা প্রয়োজন।