বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ধর্মের ভিত্তিতে জাতিকে বিভাজিত করা তাঁদের কাজ নয় এবং যারা বিভিন্ন সময়ে অন্য ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে ঘটানো হামলার শিকার হয়েছেন, তারা হামলাকারীদের নাম প্রকাশ করতে বলেছে। তিনি উপস্থিতদের কাছে সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলার আহ্বান জানান।

সভা ও সময়

শুক্রবার নয়—সম্প্রতি শনিবার (৩১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কবি-লেখক-শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক ঐক্য ফ্রন্ট আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় তিনি বলেছেন যে তারা সব ধর্মের মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিলেমিশে এসেছে এবং সকলকে ধর্মভিত্তিক বিভাজনের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তিনি পুনরায় বলেছেন, ধর্ম যার যার নিজস্ব পছন্দ।

মূল বক্তব্য ও প্রকাশিত ধারণা

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে অন্য ধর্মের মানুষ দ্বারা হামলার শিকার হয়েছেন, তারা হামলাকারী বা দুষ্কৃতকারীর নাম প্রকাশ করুন। তিনি মনে করান যে নিরীহ মানুষের ওপর দোষ চাপানো হয় এবং প্রকৃত দুষ্কৃতকারীরা প্রায়শই পর্দার আড়ালে থাকে। তিনি সমাজের কিছু দুষ্ট লোককে নির্দেশ করে বলেন, এ দুষ্টু লোকরা নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য দুষ্কর্ম করে।

ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি বার্তা

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে তারা ধর্মের ভিত্তিতে জাতিকে বিভক্ত করার কোনো কাজ করে না এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্মান ও সহাবস্থান প্রতিষ্ঠার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন বাংলাদেশ বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের মানুষের আবাসভূমি এবং তা ধর্মীয় সম্প্রতির একটি বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ধর্মীয় সম্প্রতি ও নিরাপত্তা

শফিকুর রহমান সভায় দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের উদাহরণও উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, দেশের মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডা পাহারা দিয়েছে মাদরাসার ছাত্ররা এবং ইসলামী দলের লোকেরা—এগুলো তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে অন্যান্য লোকদের ধর্মচর্চার অধিকার আল্লাহ তায়ালা দিয়েছেন, তবে কারও ওপর জোর-জবরদস্তির এখতিয়ার কাউকে দেওয়া হয়নি।

  • তিনি বলছেন দেশের ৯০ থেকে ৯১ শতাংশ মানুষ ইসলামে বিশ্বাসী এবং বাকি অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি সম্মান প্রকাশ করেছেন।
  • মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডার রক্ষা-প্রহরায় মাদরাসার ছাত্রদের এবং ইসলামী দলের লোকদের ভূমিকাকে তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক ভূমিকা সম্পর্কে মন্তব্য

অনুষ্ঠানে তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্য করে বলেন, বিগত বছরগুলোতে দেশের গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি এবং এখন সাংবাদিকরা তাদের বিবেক অনুযায়ী কাজ করবেন। তিনি বলেছেন চিন্তার জগতে কোনো আপস নেই এবং সত্য প্রকাশে কাউকে পরোয়া করার সুযোগ নেই।

“রাজনীতিবিদরা জাতির সেবক, তারা দেশের মালিকানা দাবি করতে পারে না। সব নাগরিক ন্যায্যতার ভিত্তিতে তাদের অধিকার পাবে। কোনো ধর্মের ওপর জোর-জবরদস্তির এখতিয়ার আল্লাহ কাউকে দেননি।”

সভায় তিনি পুনরায় সকল ধর্মের মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশে থাকার কথা উল্লেখ করেন এবং ধর্মনিরপেক্ষতা ও নিরাপত্তার প্রতি সমর্থন জানান।