নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পরিবর্তিত অবস্থান এবং ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, বিএনপি এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে একটি ‘যৌক্তিক সময়’ দিতে প্রস্তুত। তার মতে, যদি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একই পরিস্থিতিতে থাকতো, তাহলে তারা এতদিনে অন্তত দুই থেকে তিনবার হরতাল কর্মসূচি পালন করতো। শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান ২০২৪: জন আকাঙ্ক্ষার-সংকট ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ সাংস্কৃতিককর্মী সংঘ এই সভার আয়োজন করে।
বিএনপির অবস্থান ও মান্নার পর্যবেক্ষণ
মাহমুদুর রহমান মান্না তার বক্তব্যে রাজনীতিবিদদের মধ্যে আসা পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএনপি প্রথমে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছিল, যা সাধারণ মানুষের কাছে তেমন গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। পরবর্তীতে তারা ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলেছিল, যা নিয়েও জনমনে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বর্তমানে, বিএনপি দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে একটি ‘যৌক্তিক সময়’ দিতে সম্মত হয়েছে বলে তিনি জানান। মান্না জোর দিয়ে বলেন যে, এই পরিস্থিতিতে যদি আওয়ামী লীগ থাকতো, তাহলে তারা ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতো এবং হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি পালন করতো।
তিনি আরও বলেন, মানুষ প্রশাসনিক পদ্ধতিতে যে পরিবর্তন আশা করেছিল, তা সেভাবে হচ্ছে না। তবে, তিনি বর্তমান ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের ‘ধান্দাবাজ’ বা ‘আওয়ামী লীগের দালাল’ হিসেবে ভাবতে নারাজ। মান্নার মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা নিজ নিজ পেশায় সফল হলেও তাদের রাজনীতি সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই। তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকার ঢালাওভাবে মামলা দিচ্ছে এবং অনেককে গ্রেপ্তার করছে, যদিও এসব মামলা শেষ পর্যন্ত টিকছে না।
অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মতামত
আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, সাংস্কৃতিককর্মী সংঘের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আ মা ম হাসানুজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শাহ আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, অভ্যুত্থানের পর যেসব ঘটনা দেখা যাচ্ছে, তা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং ‘ফ্যাসিবাদ সৃষ্ট সামাজিক ক্ষত’। তিনি অভিযোগ করেন যে, ফ্যাসিবাদের দোসররা অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করছে এবং ষড়যন্ত্র চলছে। সাকি সরকারের প্রতি এই ষড়যন্ত্রকারীদের থামানোর দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক বিতর্কিত অনেক ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, তাদের মধ্যে অনেক ‘গোঁজামিল’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন ও নির্বাচন-ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
সাংস্কৃতিককর্মী সংঘের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শাহ আলম সতর্ক করে বলেন যে, ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা যেকোনো সময় ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশব্যাপী তাণ্ডব চালাতে পারে। তিনি সমাজে তাদের শক্তিশালী ‘বিষধর অনুসারী’ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত হাজার হাজার কোটি টাকার উপস্থিতিকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। শাহ আলম অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, রাজনৈতিক দল এবং ফ্যাসিবাদ-বিরোধী সকল শক্তিকে কঠিন ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।