বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলাম সম্প্রতি বলেছেন যে, তাদের সংশোধনের উদ্দেশ্যে কেউ যদি যৌক্তিক সমালোচনা করেন, তবে তারা সেই সমালোচনাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাবেন। তিনি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছেন যে, পরিশুদ্ধ নিয়তে এবং একজন সুধী হিসেবে এই ধরনের গঠনমূলক সমালোচনা অব্যাহত রাখা যেতে পারে। তবে, তিনি একইসাথে দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন যে, তারা অন্যের সমালোচনা করে নিজেদের মূল্যবান সময় নষ্ট করতে চান না, কারণ তাদের হাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। এই মন্তব্যটি তিনি গত বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।

জাহিদুল ইসলাম তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে ছাত্রশিবিরের বর্তমান কর্মপন্থা, তাদের আদর্শিক অবস্থান এবং সংগঠনের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাদের সংগঠনের শহীদ ও আহত কর্মীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে তারা এক বিশাল ও গভীর ভার অনুভব করেন। এই আত্মত্যাগের কারণে তাদের ওপর এক বড় ধরনের দায় সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও, জীবনের মায়া ত্যাগ করে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া গাজীদের প্রতিও তাদের অনেক ঋণ রয়েছে বলে তিনি তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন। এই দায়বদ্ধতার অনুভূতি তাদের প্রতিটি পদক্ষেপকে প্রভাবিত করে।

দায়বদ্ধতা ও আত্মত্যাগ

ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলাম তার বক্তব্যে শহীদ ও আহতদের প্রতি তাদের গভীর সংবেদনশীলতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এখনো শহীদের পরিবারের চোখে চোখ রেখে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো উপযুক্ত ভাষা তারা খুঁজে পান না। এই পরিস্থিতিতে তারা প্রায়শই নিস্তব্ধ হয়ে যান। যখনই শহীদের চেহারা তাদের সামনে ভেসে ওঠে, তখন তারা এক ধরনের বোবাকান্না অনুভব করেন। এই গভীর আবেগ এবং দায়বদ্ধতার কারণেই তাদের মুখে কথার ফুলঝুরি ওঠে না, বরং তারা নিজেদের কাজ ও লক্ষ্যের প্রতি আরও বেশি মনোযোগী হন।

কর্মপন্থা ও কৌশলগত দিক

জাহিদুল ইসলাম তার সংগঠনের কর্মপন্থা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন যে, তারা নিয়মিতভাবে নিজেদের আত্মসমালোচনা করেন এবং কোনো ভুল হলে তা দ্রুত সংশোধন করার চেষ্টা করেন। নতুন কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে তারা সর্বদা রবের (সৃষ্টিকর্তার) জ্ঞানভান্ডারের দিকে তাকিয়ে থাকেন, যা তাদের বিশ্বাস ও আদর্শের প্রতিফলন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তারা সুদূরপ্রসারী চিন্তা নিয়ে তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যের দিকে অবিচলভাবে হেঁটে চলেন। এই কর্মপন্থা তাদের দীর্ঘমেয়াদী উদ্দেশ্য পূরণে সহায়ক হবে।

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, যারা তাদের সংশোধনের উদ্দেশ্যে গঠনমূলক সমালোচনা করেন, তাদের সেই সমালোচনাকে তারা স্বাগত জানান। তবে, তাদের মূল মনোযোগ নিজেদের কাজ এবং লক্ষ্যের দিকে। অন্যের সমালোচনায় সময় ব্যয় না করে নিজেদের দুর্বলতা দূর করা এবং সংগঠনের উদ্দেশ্য পূরণে কাজ করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

এই স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলাম তার সংগঠনের আদর্শিক ভিত্তি, কর্মীদের প্রতি দায়বদ্ধতা, আত্ম-পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।