দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী। শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবন ‘ফিরোজা’তে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সর্বশেষ ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এই দীর্ঘ বিরতির পর তাদের সাক্ষাৎ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, বেগম খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনি তার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে কাজ করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে বেগম জিয়াকে শুভেচ্ছা জানাতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। আনসারী বেগম খালেদা জিয়ার মনোবলকে অত্যন্ত দৃঢ় দেখতে পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, মানুষের প্রতি বেগম জিয়ার যে মমত্ববোধ ও ভালোবাসা, তা তাদের আলোচনায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। আনসারী আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের মানুষ তার জন্য দোয়া করবে এবং তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।

আন্তর্জাতিক মহলে খালেদা জিয়ার খোঁজখবর

মুশফিকুল ফজল আনসারী আরও জানান, বিদেশে বেগম খালেদা জিয়ার অনেক বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত অনেক কংগ্রেসম্যান ও সিনেটর নিয়মিতভাবে বেগম জিয়ার খোঁজখবর রাখেন এবং তার স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চান। এই সাক্ষাতের মাধ্যমে তিনি বেগম জিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন, যা তাকে বিদেশে থাকা এসব শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রতিবেদন

তিনি বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, তিনি সরকারে থাকাকালীন এবং বিরোধী দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, উভয় সময়েই দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করেছেন। এই প্রসঙ্গে আনসারী যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের সর্বশেষ প্রকাশিত মানবাধিকার প্রতিবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।

ওই প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের রাজনীতি থেকে দূরে রাখার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী আরও যোগ করেন, বেগম জিয়াকে তার মানসিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী মনে হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া তাকে বলেছেন যে, দেশের সাধারণ মানুষ অনেক কষ্ট ভোগ করছে এবং অসংখ্য মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, অনেক মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। এই সাক্ষাৎ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ও আইনি অবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।