খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত সংঘাতের কোনো সুযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, আবহমানকাল থেকে বাংলাদেশের জনগণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করছে। যারা সাম্প্রদায়িক সংঘাত তৈরির চেষ্টা করছে, তারা পরাজিত শক্তি এবং তাদের এই উদ্দেশ্য কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না বলে তিনি দৃঢ়ভাবে জানান।

শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর উত্তর কর্তৃক আয়োজিত সিরাতুন্নবী (সা.) কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই সম্মেলনটি উত্তরার পলওয়েল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংঘাত নিরসন

মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ তার বক্তব্যে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রেখে চলেছে এবং এই সম্প্রীতি বিনষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে। তার মতে, যারা দেশে বিভেদ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে, তারা মূলত দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায় এবং তাদের এই ধরনের কার্যক্রম সফল হতে দেওয়া হবে না।

সম্মেলনে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে চলমান সংঘাত নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, এই সংঘাত নিছক ভুল বোঝাবুঝি থেকে সৃষ্টি হতে পারে এবং এর দ্রুত অবসান হওয়া প্রয়োজন। ড. কাদের আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের জনগণ দেশের ভেতরে ও বাইরে, এমনকি সীমান্তেও যেকোনো ধরনের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন।

ভারতীয় পুরোহিত ও বিজেপি সাংসদের শাস্তির দাবি

ড. আহমদ আব্দুল কাদের তার বক্তব্যে ভারতের মহারাষ্ট্রের পুরোহিত রামগিরি মহারাজ কর্তৃক রাসূল (সা.) কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য এবং বিজেপির সংসদ সদস্য নিতেশ নারায়ণকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তিনি বলেন, এমন অবমাননাকর মন্তব্য মুসলিম বিশ্বের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। এই ধরনের মন্তব্যের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিবাদ জানানো উচিত বলেও তিনি মনে করেন।

সম্মেলনের আয়োজন ও অংশগ্রহণকারী

খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা সাইফ উদ্দীন আহমদ খন্দকারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হকের পরিচালনায় এই সিরাতুন্নবী (সা.) কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আমিরে মজলিস মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ এবং প্রধান বক্তা ছিলেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. তারেক ফজল, চিকিৎসক, সমাজসেবক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল ডাক্তার এমদাদুল হক (অব.) এবং খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মাওলানা ফেরদৌস বিন ইসহাক। বক্তারা তাদের বক্তব্যে রাসূল (সা.) এর আদর্শ ও শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করেন এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।

সম্মেলনে উপস্থিত বক্তারা দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, ইসলামের শিক্ষা হলো শান্তি ও সহাবস্থান এবং এই মূল্যবোধগুলো সমাজে প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। দেশের সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয় যাতে কোনো অপশক্তি দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে না পারে।