বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মানবতা ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই জামায়াতের রাজনীতির মূল বিষয়। তিনি মানবতাকে খণ্ড-বিখণ্ড না করে যেকোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধ করতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ডা. শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, গণমানুষের কল্যাণই জামায়াতের রাজনীতির আদর্শ ও মূলমন্ত্র। এই আদর্শকে সামনে রেখে জামায়াতের নেতাকর্মীরা সবসময় মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে তারা সব সময়ই আপসহীন।

বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাফরুলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মূল বক্তব্য ও জাতীয় ঐক্যের আহ্বান

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে আরও বলেন, তারা মানুষকে মানুষের মর্যাদা দিতে চান। দল-ধর্মের ভেদাভেদ না করে দেশের স্বার্থে এবং জনগণের স্বার্থে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। দেশ ও জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে দলমত নির্বিশেষে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন। তার মতে, একটি বিভক্ত জাতি কখনোই উন্নতি লাভ করতে পারে না।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মূলত একটি বিভক্ত জাতির জন্য অপমান ও লাঞ্ছনা অনিবার্য। এই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিন ধরেই জাতির ওপর অপমান ও লাঞ্ছনা চলছে, যা আর চলতে দেওয়া যায় না। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের সময় এসেছে এবং এজন্য অতীত বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে ব্যক্তি জড়সড় হয়ে চলে, সে নিজের জন্য যেমন বোঝা, ঠিক তেমনিভাবে পরিবার ও সমাজের জন্যও বোঝা। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি নিজেকে মেলে ধরতে পারে, সে নিজের জন্য যেমন সম্পদ, ঠিক তেমনিভাবে পরিবার, সমাজ ও জাতির জন্যও সম্পদ। তাই প্রত্যেককে সম্পদ হওয়ার শপথ নিতে হবে বলে তিনি আহ্বান জানান।

জামায়াতের স্বকীয়তা ও কর্মপন্থা

জামায়াতের আমির আরও বলেন, তারা তাদের নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখে চলেন। মানুষের মধ্যে কোরআন-হাদিসের দাওয়াত তারা আমলি ভাষায় দেন। তিনি কাউকে বোকা মনে করেন না, বরং বিশ্বাস করেন যে মানুষ দাওয়াত গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের গন্তব্য ঠিক করে নিতে পারবে, ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, আল্লাহ মানুষের কর্মের প্রকৃত মালিক এবং মানুষের কর্তব্য হলো কর্মের মাধ্যমে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তনের চেষ্টা করা।

সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ

এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য লস্কর মুহাম্মদ তাসলিম এবং মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক। এছাড়াও, ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য মো. শহিদুল্লাহ, শাহ আলম তুহিন, মজলিসে শুরা সদস্য অধ্যাপক আনোয়ারুল করিম, আব্দুল মতিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।