বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন যে, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের জন্য দেশে ভিনদেশি বাহিনী ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পূর্বে কথা বলার স্বাধীনতা ছিল না, তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই স্বাধীনতা বিদ্যমান রয়েছে। এই অভিযোগগুলো তিনি বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মাতুয়াইলে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত একটি আর্থিক সহায়তা দান অনুষ্ঠানে করেন। এই অনুষ্ঠানে পুলিশের গুলিতে নিহতদের শোকাহত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়, যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
বৈষম্যবিরোধী গণআন্দোলন চলাকালে রাজধানীতে গুলিতে সৈকত চন্দ্র দে ও পারভেজ নিহত হয়েছিলেন। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ তারেক রহমানের নির্দেশে এই দুই পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন এবং আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছে। রিজভী তার বক্তব্যে দাবি করেন যে, ছাত্র আন্দোলন দমনের সময় পুলিশের পোশাকে হিন্দিভাষীরা গুলি চালিয়েছিল। সরকার আন্দোলন চলাকালে নিহত ৭০৮ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন, যা আন্দোলনের ব্যাপকতা সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়।
আন্দোলন ও বাক স্বাধীনতা
রুহুল কবির রিজভী তার বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বাক স্বাধীনতার বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে কেউ যদি সরকারের বিপক্ষে কথা বলেন, তাহলে তাকে আর ‘আয়নাঘরে’ যেতে হয় না। এই ‘আয়নাঘর’ বলতে তিনি এক ধরনের গোপন আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের স্থানকে ইঙ্গিত করেছেন। রিজভী জোর দিয়ে বলেন যে, বিএনপি এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টির জন্যই দীর্ঘকাল ধরে আন্দোলন করেছে, যেখানে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে। তার মতে, পূর্ববর্তী সময়ে রাজনৈতিক ভিন্নমত প্রকাশ করা কঠিন ছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য একটি ইতিবাচক দিক।
বিদ্যুৎ খাত নিয়ে অভিযোগ
দেশের বিদ্যুতের ঘাটতি প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, শুধুমাত্র প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতকে খুশি করার উদ্দেশ্যেই নিম্নমানের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। রিজভী এই প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি করেন যে, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। তার মতে, এই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে দেশের নিজস্ব স্বার্থের চেয়ে একটি নির্দিষ্ট দেশের স্বার্থ বেশি রক্ষা হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর।
এই আর্থিক সহায়তা দান অনুষ্ঠানে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে এই ধরনের সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। রিজভীর এই বক্তব্যগুলো দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির অবস্থানকে স্পষ্ট করে তোলে।