বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, দলটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো গণমানুষের কল্যাণ ও মুক্তি নিশ্চিত করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বিষয়টি মানুষকে সঠিকভাবে বোঝাতে পারলেই তারা জামায়াতের দাওয়াত গ্রহণ করবে। এক্ষেত্রে কোনো জোর-জবরদস্তির সুযোগ নেই, বরং একমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যেই দ্বীনের পথে নিরলসভাবে কাজ করে যেতে হবে।

মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর মিরপুরে একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সদস্য (রুকন) সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের মিরপুর, কাফরুল, পল্লবী ও গুলশান জোনের যৌথ উদ্যোগে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

গণবিপ্লব ও জামায়াতের ভূমিকা

মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন তার বক্তব্যে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত ৫ আগস্ট একটি সফল আন্দোলন ও গণবিপ্লবের মাধ্যমে দেশ স্বৈরাচারী শাসন, ফ্যাসিবাদ ও অপশাসন-দুঃশাসন থেকে মুক্ত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ফলে জনগণের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, এই গণআন্দোলনে ছাত্র-জনতার পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে। তার মতে, ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল রাজনৈতিক শক্তি এবং দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এই বিজয়ের অংশীদার।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্দোলনে জামায়াতের আপসহীন ভূমিকার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে দলটির গ্রহণযোগ্যতা ও স্বীকৃতি পূর্বের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের ভাষ্যমতে, অপপ্রচার ও ভুল বোঝাবুঝির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে মানুষ এখন জামায়াতকে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। এই প্রেক্ষাপটে, ইসলামী আন্দোলনের শপথবদ্ধ কর্মীদের মধ্যে কোনো হীনমন্যতার সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় জামায়াতের অঙ্গীকার

জামায়াতের এই নেতা তার বক্তব্যে দেশের জন্য দলটির দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জামায়াত দেশে একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক কুরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি জনশক্তি উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন মনে করেন, দেশে একটি সফল বিপ্লব ঘটানো এবং পরবর্তীতে দেশ পরিচালনার জন্য যোগ্য, প্রজ্ঞাবান ও নেতৃত্বের গুণাবলী সম্পন্ন জনশক্তি তৈরির কোনো বিকল্প নেই। তিনি উপস্থিত সকল সদস্যকে যার যতটুকু সুযোগ ও সক্ষমতা রয়েছে, তা যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানান।

এই সদস্য সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা সভাপতিত্ব করেন। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দীন মানিক অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ অধ্যাপক ড. মাওলানা আবুল ইহসান পবিত্র কোরআন থেকে দারস পেশ করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। এছাড়াও, সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য ও পল্লবী অঞ্চল পরিচালক নাসির উদ্দীন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক মু. আতাউর রহমান সরকার, ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য শাহ আলম তুহিন এবং মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ সহ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।