বন্যা মোকাবিলায় দেশের নদ-নদী ও খালগুলো সচল করতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নদী ও খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর দাবি জানানো হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে। একইসঙ্গে, পাঁচ দশক আগের জাতীয় ভূমি নকশা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নদ-নদী ও খাল পুনরুদ্ধার এবং সেগুলোর সীমানা নির্ধারণের দাবিও উত্থাপন করা হয়েছে। সম্প্রতি ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে ভয়াবহ বন্যার কারণে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে এই দাবিগুলো সামনে আনা হয়। এই কর্মসূচি দেশের জলপথ সচল করে বন্যা ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে দাবি করা হয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতি ও মানবিক বিপর্যয়

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সামনে এসব দাবি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা আঘাত হেনেছে। এই দুর্যোগে অনেক এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়, অসংখ্য মানুষের ঘরবাড়ি ও গবাদি পশু তীব্র স্রোতে ভেসে যায়। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অমানবিক ও অবর্ণনীয় বাসস্থান এবং খাদ্য সংকট দেখা দেয়, যা একটি গুরুতর মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নদী ও খাল খনন কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন।

নদীমাতৃক বাংলাদেশের গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

আবদুল লতিফ জনি তার বক্তব্যে বাংলাদেশের নদীমাতৃক পরিচয় তুলে ধরে বলেন, নদী ছাড়া বাংলাদেশের অস্তিত্ব কল্পনা করা অসম্ভব। তিনি আরও বলেন যে, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়নের কারণে দেশের অসংখ্য নদী আজ তাদের স্বাভাবিক গতিপথ ও অস্তিত্ব হারিয়েছে। তিনি নদীর সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, নদীগুলো হাজার হাজার বছর ধরে এদেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে মিশে আছে। এই গুরুত্ব বিবেচনা করেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার শাসনামলে ফেনী নদীর মোহনায় মুহুরী প্রকল্প এবং ছোট ফেনী নদীর মোহনায় মুছাপুর ব্যারেজ প্রকল্প চালু করেছিলেন। এই প্রকল্পগুলো দেশের নদী ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল বলে তিনি দাবি করেন।

নদী দখল ও পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি

আবদুল লতিফ জনি অভিযোগ করেন যে, দেশের একসময়ের স্রোতস্বিনী নদীগুলো ভরাট করে অবৈধভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি নদী হত্যাকারী, পাহাড় ধ্বংসকারী, বনাঞ্চল দখলকারী এবং ইটভাটা স্থাপন করে পরিবেশ নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে তদন্ত শুরু করার দাবি জানান। তার মতে, শুধু তদন্তই যথেষ্ট নয়, বরং এই দখলদার এবং তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা এবং নদীগুলোকে বাঁচানোর জন্য এই ধরনের কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

এই দাবির মাধ্যমে দেশের নদী ও খালগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে বন্যা মোকাবিলায় একটি টেকসই সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একইসঙ্গে, পরিবেশ ধ্বংসকারী এবং নদী দখলকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।