উত্তরা-পশ্চিম থানা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-আহ্বায়ক আজমল হুদা মিঠুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে তার বিরুদ্ধে দখল ও চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল হকের সই করা এক চিঠিতে তাকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আজমল হুদা মিঠুকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে নির্দেশক্রমে বহিষ্কার করা হলো। এই বহিষ্কারাদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
আজমল হুদা মিঠুর বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় ব্যবসায়ী দুলাল আহমেদ তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট সাতটি অভিযোগ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন। এই অভিযোগগুলো বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিএনপি তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
অভিযোগ ও দলীয় পদক্ষেপ
আজমল হুদা মিঠুর বিরুদ্ধে ভূমি দখল এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের মতো গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়। ব্যবসায়ী দুলাল আহমেদ কর্তৃক প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগে এই সাতটি সুনির্দিষ্ট বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রচারিত হওয়ার পর বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আজমল হুদা মিঠুর কর্মকাণ্ড দলের আদর্শ ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী। তার আচরণ দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এবং এর ফলে দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এই ধরনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দল তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, যা দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতি তাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
গণমাধ্যমে অভিযোগগুলো প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই বিএনপির ওপর চাপ বাড়ছিল। দলের হাইকমান্ড এই অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে এবং দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পরই তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই বহিষ্কারাদেশের মাধ্যমে বিএনপি তার কর্মীদের মধ্যে একটি বার্তা দিতে চেয়েছে যে, কোনো ধরনের অনৈতিক বা শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না।
এই ঘটনাটি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে। আজমল হুদা মিঠু উত্তরা-পশ্চিম থানা বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা হওয়ায় তার বহিষ্কার দলের স্থানীয় কার্যক্রমে পরিবর্তন আনতে পারে। তবে, দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।