বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো চক্রান্ত সফল হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, দুর্গাপূজার সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থানে থাকবে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কার্যকলাপ প্রতিরোধে সচেষ্ট থাকবে। তার এই মন্তব্য দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে সম্ভাব্য অস্থিরতা নিয়ে দলের অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় উল্লেখ করেন যে, দেশে কিছু ঘটনা ঘটছে এবং একই সাথে কিছু গুজবও ছড়ানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ‘৫ আগস্টের পরাজিত শক্তিরা’ এখনো নিষ্ক্রিয় নয় এবং তারা দেশে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। এই ধরনের অপচেষ্টা মোকাবিলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও সতর্ক করে দেন যে, যদি বিএনপির কোনো সদস্য এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন, তবে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাতির ওপর কলঙ্ক লেপনের যেকোনো প্রচেষ্টাকে অত্যন্ত কঠোর হাতে মোকাবিলা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন
রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জিয়া মঞ্চের ৩১’ এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে দলের অন্যান্য সিনিয়র নেতারাও উপস্থিত ছিলেন, যা দলের প্রতিষ্ঠাতা স্মরণে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির অংশ ছিল।
মামলা প্রত্যাহার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে গতিশীল রাখতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব ‘মিথ্যা মামলা’ অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি জানান গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, যদি এই মামলাগুলো প্রত্যাহার করা না হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক হবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সবার আন্দোলন ও সংগ্রামকে আমলে নিয়ে বর্তমান সরকার এসব মামলার হাজিরা থেকে তাদের রেহাই দেবে। তার মতে, যদি এসব মামলায় এখনো তাদের হাজিরা দিতে হয়, তবে তা হবে অত্যন্ত দুঃখজনক এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচনের আহ্বান
বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে নির্বাচনের মধ্যদিয়ে গণতন্ত্রে ফেরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কোনো রাজনৈতিক দলের সরকার নয়, বরং এটি আন্দোলনের ফসল। তিনি আরও বলেন, যারা বর্তমানে সরকারে আছেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সবাই অরাজনৈতিক ব্যক্তি। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিশ্বাস করেন যে, এই অরাজনৈতিক সরকার রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে গণতন্ত্রের চলার পথকে সুগম করবে। তিনি যত দ্রুত সম্ভব গণতন্ত্রের সূচনার জন্য একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করার আহ্বান জানান। তার মতে, সেই নির্বাচনে সব মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নতুন পথচলা শুরু হবে এবং একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হবে।
এসময় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম এবং স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু উপস্থিত ছিলেন। এই আলোচনাগুলো দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিএনপির প্রত্যাশা ও অবস্থানকে স্পষ্ট করে তোলে।