বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেও তিনি পুরোপুরি সুস্থ নন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনও স্থিতিশীল নয় এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক মহলে এবং দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বিএনপি মহাসচিব সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “খালেদা জিয়া খুব একটা সুস্থ না।” তার এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে চলমান উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, চিকিৎসকরা এখনও তাকে ‘ফিট টু ফ্লাই’ বা উড়োজাহাজে ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত মনে করছেন না। এই কারণেই বিদেশে যেতে তার বিলম্ব হচ্ছে। চিকিৎসকদের এই সিদ্ধান্ত তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার গুরুত্ব এবং জটিলতা স্পষ্ট করে তোলে, যা উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাত্রায় বাধা সৃষ্টি করছে।

হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরা

গত ১৮ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসভবনে ফেরেন। তিনি মোট ছয়দিন ধরে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও চিকিৎসকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল তাকে বাসায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত একটি মেডিকেল বোর্ড দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এই মেডিকেল বোর্ড তার সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নির্দেশনা প্রদান করছে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর তার বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকরা তার অবস্থা স্থিতিশীল করার জন্য কাজ করেছেন এবং এরপর তাকে বাসায় ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়, তবে শর্ত থাকে যে তিনি চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন।

দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতা

৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ফুসফুস ও কিডনি রোগ, ডায়াবেটিসসহ আরও বেশ কিছু সমস্যা। এই রোগগুলো তার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তার চিকিৎসকরা নিয়মিত তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন এবং তার অবস্থার উন্নতি ঘটাতে চেষ্টা করছেন। এসব জটিলতার কারণেই তাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকরা এখনও সবুজ সংকেত দেননি, কারণ দীর্ঘ বিমানযাত্রা তার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বাসায় ফেরার পর থেকে খালেদা জিয়া তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। দলীয় নেতাকর্মীরা এবং তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন এবং তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।