বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, খুব দ্রুতই ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির জন্য একটি নতুন কমিটি গঠন করে ঘোষণা করা হবে। শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপ বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার লক্ষ্য দলের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা।

এই কমিটি বিলুপ্তির সিদ্ধান্তটি একটি ধারাবাহিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অংশ। এর আগে গত ১৩ জুন মধ্যরাতে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ মোট চারটি মহানগরের আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়ে বিলুপ্ত হওয়া অন্য দুটি মহানগর কমিটি ছিল চট্টগ্রাম মহানগর এবং বরিশাল মহানগর। দলের পক্ষ থেকে সেই সময় জানানো হয়েছিল যে, সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার লক্ষ্যে এই কমিটিগুলো বিলুপ্ত করা হচ্ছে।

কমিটি গঠন ও বিলুপ্তির ধারাবাহিকতা

১৩ জুন কমিটি বিলুপ্তির পর, তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পর গত ৭ জুলাই বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ উল্লিখিত চারটি মহানগরে আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে। এই আংশিক কমিটিগুলো গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে পরিচালনা করা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। চট্টগ্রাম ও বরিশাল মহানগর কমিটিও একই সময়ে আংশিকভাবে গঠিত হয়েছিল। এই কমিটিগুলো গঠনের পর থেকে দলের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।

তবে, গত ৭ জুলাই গঠিত ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক কমিটি দুই মাস তিন সপ্তাহ পর আবারও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো। এই বিলুপ্তির মাধ্যমে ঢাকা মহানগর উত্তরের সাংগঠনিক কাঠামোতে নতুন করে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। দলের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, এই কমিটি বিলুপ্তির ফলে নতুন নেতৃত্ব আসার সুযোগ তৈরি হবে এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে, যা দলের কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে পারে।

বিএনপির এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্তির ফলে এখন সকলের দৃষ্টি থাকবে নতুন কমিটি ঘোষণার দিকে। দলের নেতাকর্মীরা আশা করছেন, একটি শক্তিশালী এবং কার্যকর কমিটি গঠিত হবে যা আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হবে। এই প্রক্রিয়া দলের সামগ্রিক সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।