বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক দেশের যুবসমাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, যুবকদের সুস্থ জীবন গঠনে খেলাধুলা অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে এবং এটি তাদের বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। খেলাধুলা কেবল শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে না, বরং মানসিক দৃঢ়তা ও সামাজিক বন্ধন তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের গুলশান পশ্চিম থানার যুব বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মানিক এই আহ্বান জানান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, যুবসমাজই একটি জাতির ভবিষ্যৎ এবং তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। খেলাধুলা যুবকদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বগুণ এবং দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করে, যা তাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
যুবসমাজের ভূমিকা ও কল্যাণ পরিষদ
ডা. ফখরুদ্দিন মানিক তার বক্তব্যে আরও বলেন যে, যুব কল্যাণ পরিষদ ঢাকা মহানগরী উত্তর ঢাকা সিটি উত্তরের সকল যুবকদের সাথে নিয়ে এই সমাজকে একটি আদর্শ, মাদকমুক্ত এবং সন্ত্রাসমুক্ত সমাজে পরিণত করার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিষদ যুবকদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে, যার মূল লক্ষ্য হলো তাদের সুস্থ ও গঠনমূলক জীবনধারায় ফিরিয়ে আনা। তিনি মনে করেন, যুবকদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা গেলে তারা গঠনমূলক কাজে নিয়োজিত থাকবে এবং সমাজের ক্ষতিকর দিকগুলো থেকে নিজেদের দূরে রাখতে পারবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে একটি সুস্থ, কর্মঠ ও সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি দেশ ও জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে যুবসমাজকে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। ডা. মানিক বলেন, যুবকদের মেধা ও শক্তিকে ইতিবাচক কাজে লাগাতে পারলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তাদের মধ্যে দেশপ্রেম, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক মূল্যবোধের অনুভূতি জাগিয়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা এই ধরনের মূল্যবোধ তৈরিতে একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে, যা তাদের মধ্যে দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ বাড়াতে সাহায্য করে।
টুর্নামেন্টের আয়োজন ও অংশগ্রহণ
জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের গুলশান পশ্চিম থানার যুব বিভাগ এই ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। এই ধরনের আয়োজন যুবকদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরিতে সহায়ক হয়। টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলাটি যুবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এবং এটি একটি সফল আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয়। অংশগ্রহণকারী দলগুলো তাদের ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করে এবং দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য ইয়াছিন আরাফাত। তিনি যুবকদের খেলাধুলায় আরও বেশি করে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন গুলশান পশ্চিম থানার আমির মাহমুদুর রহমান আজাদ। তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এই ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন যুবকদের মধ্যে সুস্থ বিনোদন এবং শারীরিক কার্যকলাপের সুযোগ তৈরি করেছে, যা তাদের মাদক ও সন্ত্রাসবাদের মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে দূরে রাখতে সহায়ক হবে বলে আয়োজকরা মনে করেন। এই ধরনের উদ্যোগ সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।