ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি জেনারেল এস এম ফরহাদ মন্তব্য করেছেন যে, রগকাটার কোনো ‘ডকুমেন্ট’ শিবিরের নামে পাওয়া যাবে না। তিনি দাবি করেন, ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ শিবিরের নামে বিভিন্ন ধরনের ট্যাগ ব্যবহার করে। বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এস এম ফরহাদ এই মন্তব্য করেন।

এস এম ফরহাদ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, রগকাটা লিখে গুগলে অনুসন্ধান করলে ছাত্রলীগের নামে বিভিন্ন অপরাধের তথ্য পাওয়া যায়, কিন্তু শিবিরের নামে এমন কোনো নথি পাওয়া যায় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, আওয়ামী লীগ ছাত্রশিবিরকে ফ্যাসিবাদ কায়েমের পথে একটি বাধা হিসেবে দেখেছে, আর এই কারণেই রগকাটা ট্যাগ দেওয়াসহ নানাভাবে শিবিরের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে।

ফ্যাসিবাদ কায়েমের অভিযোগ

ছাত্রশিবিরের ঢাবি সেক্রেটারি এস এম ফরহাদ বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘকাল ধরে ফ্যাসিবাদ কায়েম করার জন্য অনেক উপাদান ব্যবহার করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, অনেকে হয়তো এসব সমর্থন না করলেও বিরোধিতা করতে পারেননি। ফলে যখন একটি নির্দিষ্ট কাহিনি বা ন্যারেটিভ দাঁড় করানো হয়, তখন তা প্রতিষ্ঠিত হতে বাধ্য। তবে তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান, এই কাহিনিটি ভুল নাকি সঠিক, তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।

তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ফ্যাসিবাদ কায়েমের পথে অনেক কিছুকেই বাধা মনে করেছিল। তার মতে, প্রথমেই বিডিআর বিদ্রোহের নামে সেনা হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। এরপর দ্বিতীয় বাধা হিসেবে ছাত্রশিবিরকে চিহ্নিত করা হয় এবং প্রথম থেকেই ছাত্রশিবিরকে আক্রমণ করা হয়। তিনি দাবি করেন, দেশব্যাপী এমন কোনো স্তর নেই যেখানে শিবিরকে আক্রমণ করা হয়নি। তৃণমূল পর্যায়ে নামাজরত অবস্থায় অনেককে ধরে নিয়ে অস্ত্রসহ গ্রেফতারের অভিযোগ আনা হয়েছে। একটি ছাত্রসংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতিকে বিনা অপরাধে টানা ৫৬ দিন রিমান্ডে রাখা হয়েছিল, এবং কেউ এর প্রতিবাদ করতে পারেননি।

দমন-পীড়ন ও ভীতি তৈরি

এস এম ফরহাদ অভিযোগ করেন যে, ছাত্রশিবিরকে থামানোর জন্য ফ্যাসিবাদ দুটি প্রধান কাজ করেছে। প্রথমত, শিবিরের কেন্দ্রীয় অফিস থেকে ওয়ার্ড অফিস পর্যন্ত সিলগালা করে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, শিবিরের ব্যাপারে সমাজে একটি ভীতি তৈরি করা হয়েছে। তবে তিনি বলেন, তাদের পরিচয় ঘোষণার পর শিক্ষার্থীদের কাছে ফ্যাসিবাদের মিথ্যা বয়ান ভেঙে গেছে। কারণ, তিনি নিজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে তাদের সঙ্গেই ছিলেন। যারা তার ব্যক্তিত্ব ও আচরণ বিশ্লেষণ করার সুযোগ পেয়েছেন, তাদের নতুন করে নেতিবাচকভাবে ভাবার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ইতিবাচক ফিডব্যাক দিচ্ছে এবং তাদের ব্যক্তিত্বের ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯০ শতাংশ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। তার মতে, ফ্যাসিবাদীদের এতদিনের বয়ানকে সবাই মিথ্যা হিসেবেই গ্রহণ করেছেন।

ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক স্বাধীনতা

শিগগির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে জানিয়ে এস এম ফরহাদ বলেন, ছাত্রলীগ বা ছাত্রদলের ক্ষেত্রে কমিটিতে কে থাকবে, তা তাদের একটি নির্দিষ্ট সংগঠন ঠিক করে দেয়। কিন্তু শিবিরের কমিটি ঘোষণা বা বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত শিবিরের নিজস্ব। শিবিরের অধীনস্থ জনশক্তিই সিদ্ধান্ত নেয় কে সভাপতি হবে, যা ব্যক্তিত্ব ও সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া হয়। শিবিরের কর্মীরাই তাদের নেতা নির্বাচিত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, শিবির একটি স্বাধীন সংগঠন যার নিজস্ব গঠনতন্ত্র এবং ফ্রেম ওয়ার্ক রয়েছে, যা অনলাইনে উন্মুক্ত। সেই অনুযায়ীই তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।