ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান সাগরকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এই গ্রেফতারের ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানের সর্বশেষ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ডিবি পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান সাগরকে গোয়েন্দা পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়েছে। এই গ্রেফতারের ফলে ছাত্র রাজনীতিতে এবং বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এই পদক্ষেপ ছাত্র সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ছাত্রলীগ নেতাদের ধারাবাহিক গ্রেফতার
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা ছাত্র রাজনীতিতে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। মেহেদী হাসান সাগরের গ্রেফতারের কয়েকদিন আগে, গত রোববার, ২৭ অক্টোবর দিনগত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি খাদিজা আক্তার ঊর্মি এবং সূর্যসেন হল শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোয়াজ্জেম এইচ রাকিব সরকারকে গ্রেফতার করা হয়। এই দুই নেতার গ্রেফতারের ঘটনাও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তাদের গ্রেফতারের কারণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য তখন প্রকাশ করা হয়নি, তবে এটি ছিল ছাত্রলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের একটি অংশ। এই গ্রেফতারগুলো ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে এক ধরনের সতর্কতামূলক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
পূর্ববর্তী গ্রেফতারসমূহ
এরও আগে, গত বুধবার, ২৩ অক্টোবর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদকে পুলিশ গ্রেফতার করে। ইয়াজ আল রিয়াদের গ্রেফতারের ঘটনাটিও ছিল অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য এবং এটি ছাত্র রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। তার গ্রেফতারের পর থেকেই ছাত্র রাজনীতিতে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং বিভিন্ন মহলে এর কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এই ধারাবাহিক গ্রেফতারগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে একটি বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে ছাত্রনেতাদের কার্যক্রম নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
এই গ্রেফতারগুলো এমন এক সময়ে ঘটছে যখন দেশের ছাত্র সংগঠনগুলোর কার্যক্রম এবং তাদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রনেতাদের ধারাবাহিক গ্রেফতারের ঘটনাগুলো ছাত্র সমাজে এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর প্রভাব ফেলছে। এই ঘটনাগুলো দেশের ছাত্র রাজনীতির গতিপথ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবনার জন্ম দিয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক এই ধরনের পদক্ষেপগুলো ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে এবং তাদের কার্যক্রমে আরও সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
ডিবি পুলিশ কর্তৃক মেহেদী হাসান সাগরের গ্রেফতার এবং এর আগে আরও কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতার গ্রেফতারের ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ছাত্র সংগঠনগুলোর কার্যক্রমের উপর নিবিড় নজর রাখছে। এই গ্রেফতারগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে অনেকে মনে করছেন, যেখানে শৃঙ্খলা এবং আইন প্রয়োগের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।