নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত এই কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের প্রয়োজন মনে করে না। তবে, কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে তাদের সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট মতামত গ্রহণ করবে। এই ঘোষণাটি আসে গত বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে কমিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে। ড. বদিউল আলম মজুমদার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কমিশনের কাজের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কমিশনের প্রধানের এই মন্তব্য নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কমিশনের মূল কাজ হলো নির্বাচন কার্যক্রমকে আরও সুন্দর ও কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা প্রণয়ন করা, কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনকে ‘সুন্দর’ উপহার দেওয়া তাদের দায়িত্বের অংশ নয়। এই সংস্কার কমিশন আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই তাদের সুপারিশমালা জমা দেওয়ার সময়সীমা পেয়েছে এবং তারা সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।

কমিশনের বৈঠক ও অংশগ্রহণকারীগণ

গত বৃহস্পতিবারের এই বৈঠকে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যবৃন্দ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ড. তোফায়েল আহমেদ, জেসমিন টুলী, ড. মো. আব্দুল আলীম, ডা. জাহেদ উর রহমান, মীর নাদিয়া নিভিন এবং মোহাম্মদ সাদেক ফেরদৌস। এছাড়াও, সদস্য ও ছাত্র প্রতিনিধি সাদিকাল আরমান, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন এবং ইসির উপসচিব মো. আতিয়ার রহমানও এই সভায় উপস্থিত ছিলেন। এই ব্যাপক উপস্থিতি কমিশনের কাজের প্রতি বিভিন্ন মহলের আগ্রহকে প্রতিফলিত করে।

সংস্কার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ও কর্মপন্থা

ড. বদিউল আলম মজুমদার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানান যে, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের কাজ উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে চলেছে। এ পর্যন্ত কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে মোট ১২টি বৈঠক সম্পন্ন করেছে। এই বৈঠকগুলোতে দেশের নির্বাচনের বিভিন্ন আইন-কানুন এবং বিধিমালা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কারের জন্য কমিশন বিভিন্ন অংশীজনের কাছ থেকে তাদের মূল্যবান মতামত সংগ্রহ করবে। এই মতামত সংগ্রহ প্রক্রিয়া কমিশনের সুপারিশমালা প্রণয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. বদিউল আলম মজুমদার তার অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, “আমি মনে করি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো মতবিনিময়ের প্রয়োজন নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে আমরা সুস্পষ্ট মতামত নেবো।” এই বক্তব্য কমিশনের কার্যপদ্ধতির একটি বিশেষ দিক তুলে ধরে, যেখানে সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে লিখিত বা সুনির্দিষ্ট মতামত সংগ্রহের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

কমিশনের দায়িত্ব ও সময়সীমা

সংস্কার কমিশনের প্রধান আরও ব্যাখ্যা করেন যে, তাদের দায়িত্বের পরিধি সুনির্দিষ্ট। তিনি বলেন, “সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের নয়। নির্বাচন ব্যবস্থা বা নির্বাচন কার্যক্রম সুন্দরভাবে করার জন্য আমাদের কাজ হলো কিছু সুপারিশ করা।” এই বক্তব্য কমিশনের ম্যান্ডেটকে স্পষ্ট করে এবং তাদের কাজের মূল উদ্দেশ্যকে সংজ্ঞায়িত করে। কমিশনকে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই তাদের সুপারিশমালা জমা দেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে এবং তারা এই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই তাদের কাজ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। এই সুপারিশমালা দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে।