ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। সোমবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয় এবং প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে। এই আলোচনায় দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সমুন্নত রাখার বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।

বৈঠকে নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী ছাড়াও ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের ডেপুটি রাষ্ট্রদূত ললিতা সিলওয়াল উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ অংশগ্রহণ করেন। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের বহু পুরনো ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে। তবে, তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সম্পর্কের মধ্যে সহযোগিতার যে বিশাল সম্ভাবনা নিহিত ছিল, তা এখনো পুরোপুরিভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)-কে তার প্রকৃত লক্ষ্য অনুযায়ী সঠিক অবস্থানে নিয়ে যেতে না পারার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষই সার্ককে আরও শক্তিশালী করে এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগানোর বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হয়।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও উল্লেখ করেন যে, নেপালের হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার বা জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ খাতে উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হতে পারে। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে যে “কলঙ্কিত অধ্যায়” তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে। আঞ্চলিক বিদ্যুৎ পুল ব্যবহার করে অথবা সরাসরি নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আনার মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গণতান্ত্রিক শাসন ও আঞ্চলিক সহযোগিতা

বৈঠকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও নেপাল একসঙ্গে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সঙ্গে নেপালের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন যে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জনগণের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বজায় রেখে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাবে। এছাড়াও, দুই দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে আমীর খসরু উল্লেখ করেন। এই বৈঠকটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও পারস্পরিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করার এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।