রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ‘প্রকাশ্যে জবাই’ শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ‘জবাই করার ভিডিও নয়’ বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ভিডিওটি ভুল তথ্যসহ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে। আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূঁইয়া বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) জানান, গত বুধবার থেকে ফেসবুকে এক সপ্তাহ আগের একটি ভিডিওকে বিকৃত তথ্য দিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর সকালে আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলার পর আহত যুবককে একটি টিনের চালার ওপর ফেলে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে, আহত যুবকের গ্রুপের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে ‘প্রকাশ্যে জবাই’ হিসেবে প্রচারিত ভিডিওটি মূলত ওই ছুরিকাঘাতের ঘটনার সময়েরই ধারণ করা। পুলিশ দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে যে, ভিডিওটিতে কাউকে জবাই করা হয়নি, কেউ মারাও যায়নি। বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে এই ভিডিও ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে পুলিশ উল্লেখ করেছে।
ঘটনার তদন্ত ও গ্রেফতার
ওসি মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূঁইয়া আরও জানান, গুরুতর ছুরিকাঘাতের ঘটনা সত্ত্বেও পুলিশের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হয়নি। এর কারণ, আহত যুবক নিজেও একটি কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে, কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করতে আগ্রহী হয়নি। পুলিশ আহত যুবকের খোঁজ করেছে, কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। তবে, এই হামলার সঙ্গে জড়িত আল-আমিন ও রিয়া নামের দুজনকে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং র্যাবের সমন্বিত যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই গ্রেফতার অভিযান আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ।
মাদক কারবার ও সংঘর্ষ
মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পভিত্তিক মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এই সংঘর্ষগুলো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর থেকে এই অঞ্চলে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘাতের প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওই জেনেভা ক্যাম্পসহ আশপাশের এলাকায় যৌথবাহিনী ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে। গত কয়েক দিনে পরিচালিত এই অভিযানগুলোতে মোট ৫৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওসি ইমতিয়াজ ভূঁইয়া নিশ্চিত করেছেন যে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ছাদের চালার ওপর যুবককে ছুরিকাঘাত করার ঘটনায় জড়িত আট সদস্যও রয়েছেন। এই অভিযানগুলো মাদক কারবার এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দমনে ভূমিকা রাখছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানোর এই ঘটনাটি একটি গুরুতর বিষয়, যা জনমনে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জনসাধারণকে যেকোনো তথ্য যাচাই না করে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে এবং গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।