সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সমস্যার দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান বাস্তবায়নে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সমাবেশে বাংলাদেশ সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে। গত ৩০ ও ৩১ অক্টোবর দুদিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল যোগ দেয়। এই সমাবেশে, বাংলাদেশ ফিলিস্তিন ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে একটি সার্বিক ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট এবং সময়সীমা বেঁধে দেওয়া পদক্ষেপসহ একটি কার্যকর রোডম্যাপের প্রয়োজনীয়তার ওপর দৃঢ়ভাবে জোর দিয়েছে। বাংলাদেশের এই অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি দেশের অবিচল সমর্থনকে পুনর্ব্যক্ত করে।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব ড. নজরুল ইসলাম। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশ আয়োজনের জন্য আয়োজক দেশ সৌদি আরব এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্সের সহ-আয়োজকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রতিনিধিদল তাদের উপস্থাপনায় ফিলিস্তিন সমস্যার একটি সামগ্রিক ও স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে। তারা জোর দিয়ে বলেন যে, একটি সুনির্দিষ্ট ও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া পদক্ষেপসহ একটি কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়ন করা অপরিহার্য, যা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
সম্মেলনের মূল দিকসমূহ
এই বৈশ্বিক সমাবেশের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান বাস্তবায়নের জন্য একটি কার্যকর কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান বিন আব্দুল আজিজ এই উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন। সম্মেলনে অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি), আরব লীগ এবং জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর প্রায় ৯০টি প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে। এই ব্যাপক আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের গভীর উদ্বেগ এবং একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য তাদের সম্মিলিত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটায়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
ড. নজরুল ইসলাম ছাড়াও, বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক মহাপরিচালক মো. শফিকুর রহমান অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতাকে তুলে ধরে, যেখানে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতি এবং তাদের ন্যায্য অধিকারের প্রতি সমর্থন একটি মৌলিক নীতি হিসেবে বিবেচিত। অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের আলোচনা থেকে একটি উদ্দিষ্ট রোডম্যাপ গ্রহণের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সভাটি সম্মেলনের মূল আলোচনার ফলাফলগুলোকে একটি সুসংহত কর্মপরিকল্পনায় রূপান্তর করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রোডম্যাপে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, সময়সীমা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। রিয়াদের এই সম্মেলন ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার একটি অংশ। বাংলাদেশ এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পক্ষে তার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।