চকবাজার ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মিঠুন চক্রবর্তীকে ফেনী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি গত বছরের জুলাই-আগস্টে সংগঠিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে μαθηচারীদের ওপর গুলি ছোড়েন এবং সেই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারের সময় ও স্থান

পুলিশ বলেছে, মিঠুনকে রোববার (২২ ডিসেম্বর) ফেনী সদর থানাস্থ সুলতানপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি পরদিন সিএমপির উপকমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. রইছ উদ্দিন নিশ্চিত করেন। সংবাদে বলা হয়েছে, গ্রেফতারের তথ্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা গেছে এবং তাকে রিমান্ডে নেওয়ার ব্যবস্থার চেষ্টা করা হবে।

ঘটনার বিবরণ

পুলিশি ব্যাখ্যায়, মিঠুন চক্রবর্তী গত ১৬ জুলাই দুপুর আড়াইটার দিকে ষোলশহর ২নম্বর গেট সংলগ্ন চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্সের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অবস্থানের দিকে গুলি চালান। সিএমপি জানিয়েছে যে ওই সময়ে তিনি নিজে পিস্তল হাতে ছাত্রদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালান এবং সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল।

পুলিশি অভিযোগ ও মামলার অবস্থা

সিএমপি আরও জানিয়েছে, মিঠুনের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা রেকর্ড করা রয়েছে। পুলিশের বিবরণে বলা হয়েছে যে তিনি পাঁচলাইশের কাতালগঞ্জ ও চকবাজার এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সরকারি জমির অবৈধ দখলদার এবং টেন্ডারবাজ হিসেবে পরিচিত একাধিক কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নুর মোস্তফা টিনুর বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত। এই সব তথ্য পুলিশি খাতায় উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ

উপকমিশনার মো. রইছ উদ্দিন জানিয়েছেন, গ্রেফতারের পর তাকে রিমান্ডে এনে ঘটনার সঙ্গে ব্যবহৃত অস্ত্র ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। গ্রেফতারের পেছনে গোপন সংবাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং সে সম্পর্কে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনাটি ভিন্ন সময়ে এবং ভিন্ন অবস্থায় ঘটে বলে পুলিশি বর্ণনায় প্রতীয়মান। বর্তমানে মিঠুন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং মামলার প্রক্রিয়া অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য আইনি ব্যবস্থাগুলো সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।