থার্টি ফার্স্ট নাইট সামনে রেখে সরকার উত্সবপর্বে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স হাই-অ্যালার্টে রয়েছে এবং রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বড় নৈরাজ্য, অগ্নিকাণ্ড বা জনবহুল ঘটনার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কড়া পদক্ষেপ নেয়। রাজধানীতে অতিরিক্ত তিন হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা ও মোবাইল ম্যাজিস্ট্রেটের ব্যবস্থা
থার্টি ফার্স্ট নাইটে উন্মুক্ত স্থানে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান, সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত, নাচ, গান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র্যালি বা শোভাযাত্রা অনুমোদিত নয়। সকল ধরনের আতশবাজি, পটকা ফোটানো ও ফানুস ওড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ে দুপুর ও রাত উভয় সময় পর্যাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট শহরের বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন থাকবে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
প্রবেশনিষেধ ও চেকপোস্ট
রাত ৮টা থেকে গুলশান, বনানী, বারিধারা, বাড্ডা লিংক রোড, ডিওএইচএস বারিধারা এবং নতুন বাজার ক্রসিংসহ নির্দিষ্ট ক্রসিংগুলো কোনো বাড়তি প্রবেশের জন্য ব্যবহারযোগ্য হবে না; তবে ওই এলাকায় বের হওয়ার সময় এগুলো ব্যবহার করা যাবে। নির্দিষ্ট ক্রসিংগুলোর মধ্যে রয়েছে মহাখালী-ফিনিক্স রোড ক্রসিং, বনানী-১১ নম্বর রোড ক্রসিং, চেয়ারম্যানবাড়ি ক্রসিং, ঢাকা গেট, শুটিং ক্লাব ও ইউনাইটেড হাসপাতাল ক্রসিং।
- মহাখালী এলাকা-ফিনিক্স রোড ক্রসিং
- বনানী-১১ নম্বর রোড ক্রসিং
- চেয়ারম্যানবাড়ি ক্রসিং
- ঢাকা গেট ও শুটিং ক্লাব আশপাশ
- বাড্ডা লিংক রোড ও ডিওএইচএস বারিধারা-ইউনাইটেড হাসপাতাল ক্রসিং
- নতুন বাজার ক্রসিং
প্রতি চেকপোস্টে সন্দেহ হলে তল্লাশি ও ব্যাগ সার্চ করা হবে। র্যাব ও পুলিশ উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চেকপোস্ট ও টহল জোরদার করেছে। ডগ স্কোয়াডও মোতায়েন রয়েছে।
র্যাব, ডিএমপি ও ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতি
র্যাব সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে এবং অনলাইন মনিটারিং চালিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ডিএমপি তার বিভিন্ন থানায় নির্দেশনা দিয়ে অভিজাত এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্পটে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, গুলশান, ৩০০ ফিট ও উত্তরা-দিয়াবাড়ীসহ নির্দিষ্ট পয়েন্টে বিশেষ নজর রাখা হবে।
ফায়ার সার্ভিস সারাদেশে সব স্টেশনকে হাই-অ্যালার্টে থাকার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে যে কোনো অগ্নিকাণ্ড ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া যায়। ফায়ার সার্ভিস সংশ্লিষ্ট একজন আধিকারিক জনসাধারণকে ফানুস না ওড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছেন, কারণ এতে অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
‘শব্দদূষণ নানা ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে। নতুন বছর উদযাপন করতে গিয়ে যেন শব্দদূষণ না হয় সেই ব্যাপারে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নানা ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’
ডিবি পুলিশের নজরদারিতে দাগী ও চিহ্নিত অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সাইবার ইউনিট গুজব প্রতিরোধে অনলাইন নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
অবশেষে, থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো একযোগে কাজ করছে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা হলে নির্বিঘ্ন ছাড় দেওয়া হবে না।