বছরে অন্তত একবার সরকারি, বেসরকারি কিংবা আবাসিক স্থাপনার বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা করার নিয়ম থাকলেও তা নিয়মিত বাস্তবায়ন হয় না, ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন বাজারজাত বিভিন্ন মানের সকেট ও বৈদ্যুতিক উপকরণ ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করা মিলিয়ে অগ্নি দগ্ধ ঘটনার সম্ভবনা বেড়ে যায়।

ঘটনার সারসংক্ষেপ

গত বুধবার মধ্যরাতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সচিবালয়ে বৈদ্যুতিক লুজ কানেকশনের কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির একজন সদস্য বলেন, পরীক্ষার নিয়ম থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা অনিয়মিত হওয়ার ফলে একই স্থানে ১০ বছরেও পর্যাপ্ত পরীক্ষা করা হয় না। তিনি ঘটনার সাক্ষাৎকারে স্থানীয় পরিস্থিতি ও ব্যবহৃত উপকরণের ভিন্নতাকে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক, বেসরকারি অফিস বা পারিবারিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন দাম ও মানের সকেট ও ইলেকট্রিক্যাল সামগ্রী বাজারে সহজলভ্য। এই ভিন্নতার ফলে নিম্নমানের বৈদ্যুতিক উপকরণ ব্যবহার ও যথাযথ নিরীক্ষা না থাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটার প্রবণতা বাড়ছে, এমনটাই বলা হয়েছে।

তদন্ত ও বিশেষজ্ঞ মন্তব্য

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বুয়েটের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মাকসুদ হেলালী এসব বিষয় তুলে ধরেন। তিনি একই সঙ্গে সচিবালয়ে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ড তদন্তে গঠিত বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্যও বলেছেন।

“নিয়ম অনুযায়ী একটা তারের সংযোগ হওয়া উচিত জাংশন টু জাংশন। কিন্তু আমরা অনেক সময় জোড়া তালি দিয়ে থাকি, যা মোটেও উচিত নয়।”

তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি কিংবা পারিবারিক যে কোনো বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ নির্দিষ্ট সময় পর পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা উচিত। এই পর্যবেক্ষণ ও নিয়মিত পরিদর্শন না থাকলে একই ধরণের লুজ কানেকশন বা নিম্নমানের সরঞ্জাম থেকে বিপদ দেখা দিতে পারে।

প্রস্তাবিত প্রতিরোধমূলক দিকগুলো

  • বৈদ্যুতিক সংযোগের নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা।
  • জাংশন টু জাংশন সংযোগ বজায় রাখা এবং জোড়া তালি করা থেকে বিরত থাকা।
  • বাজারে বিভিন্ন মানের সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলে ঝুঁকি বাড়লে উপযুক্ত মানের পণ্য ব্যবহার নিশ্চিত করা।

সংক্ষেপে, বারবার পরীক্ষার নিয়ম থাকলেও তা কার্যকরভাবে পালিত না হওয়ায় এবং বিভিন্ন মানের বৈদ্যুতিক উপকরণ ব্যবহারের কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বেড়েছে—এটাই তদন্ত কমিটির সদস্য ও বিবৃতিতে তুলে ধরা মূল বিষয়।