বান্দরবানের রোয়াংছড়ির তারাছা ইউনিয়নের মেয়ে নুখিংসাই মারমা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)–র ১০২তম রিক্রুট ব্যাচের নারী প্রার্থীদের মধ্যে সমাপনী কুচকাওয়াজে শ্রেষ্ঠ হন। সীমান্তপাড়ের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের ক্রমাগত হেঁটে স্কুল যাওয়া, পরিবারের সহায়তা ও নিজ ইচ্ছা তাকে এ অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। টানা ছয় মাসের কঠোর মৌলিক প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করে তিনি ৪৬ নারী রিক্রুটের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হন এবং আদিবাসীদের মধ্যে এটি প্রথমবারের ঘটনা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
পটভূমি ও যোগদানের কারণ
নুখিংসাই মারমা কৃষক পরিবারের সন্তান। পাহাড়ি এলাকায় জন্ম হওয়ায় পড়াশোনা করতে তাকে বাড়ি থেকে বহু মাইল পা চালিয়ে স্কুলে যেতে হতো। পরিবারের উৎসাহেই তিনি পড়াশোনা চালিয়ে অভীষ্ট পেশা হিসেবে বিজিবিতে যোগদানের স্বপ্ন দেখেছিলেন। শিশুকাল থেকে বিজিবির সদস্যদের দেখে তার মধ্যে বাহিনীতে যোগদানের আকর্ষণ গড়ে ওঠে। তিনি বলেছেন যে দেশের ভূখণ্ড রক্ষায় নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করবেন।
“পুরুষ সদস্যরা দেশের ভূখণ্ড রক্ষার্থে কাজ করলে নারীরা কেন নয়। সেই থেকে নারী সদস্য হিসেবে বিজিবিতে যোগদানের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন আজ বাস্তব। বাংলাদেশের ভূখণ্ড রক্ষার্থে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করবো।”
ট্রেনিং, পারফরম্যান্স ও আচরণ
বিজিবির মৌলিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল ৩০ জুলাই বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে (বিজিটিসি অ্যান্ড সি) এবং মোট ৬৯৫ জন রিক্রুট এই প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৬৪৯ জন পুরুষ এবং ৪৬ জন নারী রিক্রুট মৌলিক প্রশিক্ষণ উত্তীর্ণ হন। দীর্ঘ ২৩ সপ্তাহের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে আনুষ্ঠানিক শপথগ্রহণ ও সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণ চলাকালীন নুখিংসাই ট্রেনিং সেন্টারের পাশাপাশি প্রশিক্ষকদের আন্তরিকতায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং ট্রেনিংকে কষ্ট হলেও মনের আনন্দ নিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ট্রেনিং শেষ করে বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করা তার সংকল্প ছিল। একই অনুষ্ঠানে ১০২তম ব্যাচের শ্রেষ্ঠ চৌকস রিক্রুট হিসেবে প্রথম স্থান অধিকার করেন মো. নাঈম মন্ডল।
নাঈম মন্ডলের অভিজ্ঞতা
মো. নাঈম মন্ডল বলেছেন যে নবীন সৈনিক হয়ে শপথ নেওয়া এবং বাহিনীর সদস্য হিসেবে নিজেকে ধন্য মনে করছেন। তিনি প্রশিক্ষণকে কষ্টসাধ্য হলেও ফলপ্রসূ অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং প্রশিক্ষকের সহায়তার কথা উল্লেখ করেছেন। নাঈম ব্যক্তিগতভাবে প্রথমবার ফায়ারিংয়ের অভিজ্ঞতা ও অস্ত্র হাতে গুলির অনুভূতি উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে বিজিবির একজন গর্বিত সৈনিক হিসেবে দেশের ভূখণ্ড রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা (অব.) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন এবং সেরা রিক্রুটদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।
সমাপ্তি
টানা ছয় মাসের প্রশিক্ষণ এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নুখিংসাই মারমা ও অন্যান্য রিক্রুটরা তৎপরভাবে বাহিনীর শপথগ্রহণ সম্পন্ন করেছেন। প্রশিক্ষণের সফল সমাপনী ও সমাদর তাদের সৈনিক জীবনের শুভ সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।