শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) মধ্যরাত থেকে দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্য লিটার প্রতি এক টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ কর্তৃক জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নতুন মূল্য কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল এবং অকটেনের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিন ১০৫ টাকায় বিক্রি হবে, যা পূর্বে ১০৪ টাকা ছিল। একইভাবে, অকটেনের দাম লিটার প্রতি ১২৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২৬ টাকা হয়েছে। অন্যদিকে, পেট্রোলের মূল্য লিটার প্রতি ১২১ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১২২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই মূল্য সমন্বয় দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং এর ফলে পরিবহন ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতে পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে।

জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপট

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ তাদের প্রজ্ঞাপনে এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে যে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের চলমান ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি মাসে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। এই প্রাইসিং ফর্মুলার মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি তেলের মূল্যকে যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে রাখা এবং ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা। এই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পূর্ববর্তী মূল্য সমন্বয়

বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির পূর্বে, গত ১ জানুয়ারি সরকার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে এক টাকা কমিয়েছিল। সেই সময় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ায় এই কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে, বিশ্ববাজারের সাম্প্রতিক প্রবণতা এবং স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির প্রয়োগের ফলে আবারও মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার অকটেন ১২৫ টাকা এবং পেট্রোল ১২১ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল, যা বর্তমান প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে। এই ধারাবাহিক মূল্য সমন্বয় প্রক্রিয়াটি দেশের জ্বালানি নীতিমালার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই মূল্য সমন্বয়ের ফলে দেশের পরিবহন খাত, কৃষি এবং শিল্প উৎপাদনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে এর প্রভাব পড়তে পারে। সরকার আশা করছে যে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এই ধরনের নিয়মিত মূল্য সমন্বয় দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করবে। ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের এই স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।