বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, জনগণ শিবিরের কার্যক্রমকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছে এবং এটি শিবিরের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। একই সঙ্গে এই মূল্যায়ন শিবিরের দায়িত্ব এবং চ্যালেঞ্জ বহুগুণ বাড়িয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

অধিবেশন ও অনুষ্ঠানসূচি

শিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ-২০২৫ এর দুই দিনব্যাপী প্রথম সাধারণ অধিবেশন রাজধানীর মগবাজারস্থ আল ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। заходানুষ্ঠানটি বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল আটটায় দারসুল কুরআনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এবং শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। দারসুল কুরআন পাঠ করেন সংগঠনের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।

অধিবেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানের শহীদ সামিউ আমান নূরের বাবা মো. আমান। সেশন চলাকালে ২০২৫ সেশনের নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্যদের নাম ঘোষণা এবং শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। অধিবেশনের সমাপনীতে কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট (কমিটি) গঠন করা হয় এবং বিদায়ী ২২ জন কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য বক্তব্য প্রদান করেন।

প্রধান অতিথি ও মূল বক্তব্য

কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের প্রথম সাধারণ অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। প্রথম দিনের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দামের সঞ্চালনায় অধিবেশন পরিচালিত হয়।

“জনগণ শিবিরের কার্যক্রমকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছে, যা শিবিরের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। তবে এই সুযোগের সঙ্গে সঙ্গে শিবিরের দায়িত্ব এবং চ্যালেঞ্জও বহুগুণ বেড়েছে”

ডা. তাহের তার বক্তব্যে বলেছেন যে সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শিবির জনগণের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে এবং তাই শিবিরের নেতৃত্বকে আরও দূরদর্শী হয়ে যুগোপযোগী কৌশল গ্রহণ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই নেতৃত্বই শিবিরকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পথ দেখাবে এবং জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে।

অন্যদিকে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ২০২৫ সালকে দেশ ও ইসলামী আন্দোলনের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে উল্লেখ করে বলেন যে সঠিক তৎপরতা, সুসংগঠিত পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে আসন্ন নির্বাচনে আশানুরূপ ফলাফল অর্জন সম্ভব হতে পারে। তিনি দেশের জন্য গতকালকের নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড ও বিভিন্ন কষ্টের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এ সময় তা ধৈর্য ও পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যবহারের পরামর্শ দেন এবং এই নেয়ামতকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো প্রয়োজন হওয়া সম্পর্কে কথা বলেন।

আলোচনা ও যে দাবি-দাওয়া ওঠে

কেন্দ্রীয় সভাপতির বক্তব্যে জাহিদুল ইসলাম বলেন যে জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান থেকে মানুষের অংশগ্রহণ এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা দেখা গেলেও কাঙ্ক্ষিত সংস্কারগত পরিবর্তন এখনও ধীরগতিতে চলছে। তিনি বিশেষভাবে ক্যাম্পাসগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দ্রুত পুনরায় আয়োজনের দাবি তুলেছেন এবং শিক্ষাঙ্গণের গণতন্ত্রহীনতার অবসান ঘটানোর প্রয়োজনীয়তা বলেন।

  • দারসুল কুরআনের মাধ্যমে অধিবেশনের উদ্বোধন
  • নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের নাম ঘোষণা ও শপথ
  • কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট (কমিটি) গঠন ও বিদায়ী সদস্যদের বক্তব্য

অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের বিভিন্ন সাবেক ও বর্তমান নেতা যারা সভায় বক্তব্য রাখেন। কেন্দ্রীয় সভাপতির সমাপনী বক্তব্য এবং দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে কার্যকরী পরিষদের অধিবেশন সমাপ্ত করা হয়।