আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এ সারাদেশে গত ২১ দিনে মোট ১১ হাজার ৯৩১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে শুরু হওয়া এই অভিযান ২৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলমান ছিল। এই অভিযানের আওতায় সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযানের পাশাপাশি অন্যান্য মামলা ও ওয়ারেন্টের আওতায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭৮৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১ হাজার ৪০৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অভিযান ও গ্রেফতারের বিস্তারিত

‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ একটি বিশেষ অভিযান যা গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হয়েছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো দেশবিরোধী চক্র, সন্ত্রাসী এবং দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় আনা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযানের মাধ্যমে ‘শয়তান শিকার’ করার কথা ঘোষণা করেছে, যেখানে ‘ডেভিল’ অর্থ ‘শয়তান’ এবং ‘হান্ট’ অর্থ ‘শিকার’ বোঝানো হয়েছে।

অভিযান শুরুর পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক তল্লাশি ও অভিযান পরিচালনা করছে। এর ফলস্বরূপ, গত ২১ দিনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর আওতায় থাকা ব্যক্তিরা যেমন রয়েছেন, তেমনি বিভিন্ন বিচারাধীন মামলা ও ওয়ারেন্টের ভিত্তিতেও অনেকে গ্রেফতার হয়েছেন। এই ধারাবাহিক অভিযান দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

উদ্ধারকৃত অস্ত্রশস্ত্র

গত ২৪ ঘণ্টায় ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ চলাকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ কিছু অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করেছে। এআইজি ইনামুল হক সাগর উদ্ধারকৃত সামগ্রীর একটি তালিকা প্রদান করেছেন। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে:

  • দুটি টিপ ছোরা
  • একটি লোহার রড
  • একটি দেশীয় এলজি
  • একটি কার্তুজ
  • একটি ছুরি
  • চারটি চাকু
  • একটি সুইচ গিয়ার

এই অস্ত্র উদ্ধার অভিযান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার একটি অংশ, যা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক।

‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানের প্রেক্ষাপট

‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু হওয়ার পেছনে একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট রয়েছে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরে ছাত্র-জনতার ওপর সন্ত্রাসী হামলা সংঘটিত হয়। এই হামলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত সন্ত্রাসীরা নেতৃত্ব দিয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এই হামলায় জড়িত ছিলেন। এই হামলার ফলে বেশ কয়েকজন হতাহত হন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

গাজীপুরের এই ঘটনার পরপরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায়ই ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ নামক বিশেষ অভিযানটি সারাদেশে একযোগে শুরু হয়। এই অভিযান দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।