বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী দলের নেতা এটিএম আজহারের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি গত মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল, নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই দাবি উত্থাপন করেন। জাহিদুল ইসলাম তার পোস্টে এটিএম আজহারুল ইসলামকে ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি’ এবং ‘আমাদের প্রিয় রাহাবার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার এই দাবি রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং এটিএম আজহারের বর্তমান আইনি পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

শিবির সভাপতির মুক্তি দাবি

জাহিদুল ইসলাম তার ফেসবুক পোস্টে এটিএম আজহারের মুক্তির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তার লেখায় উল্লেখ করেন যে, এটিএম আজহারুল ইসলামকে অবিলম্বে এবং কোনো শর্ত ছাড়াই মুক্তি দেওয়া উচিত। ছাত্রশিবিরের সভাপতির এই ধরনের সরাসরি বিবৃতি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে।

“বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি, আমাদের প্রিয় রাহাবার এটিএম আজহারুল ইসলাম ভাইকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।”

এই উক্তিটি এটিএম আজহারের প্রতি তার সংগঠনের গভীর শ্রদ্ধা এবং তার মুক্তির জন্য তাদের দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন। এটিএম আজহারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবন এবং ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে তার ভূমিকা এই দাবির পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সরকারের প্রতি অভিযোগ ও সতর্কতা

জাহিদুল ইসলাম তার বিবৃতিতে বর্তমান সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেছেন যে, এটিএম আজহারের মতো একজন ‘মাজলুম ব্যক্তিত্বের’ ওপর ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা’ যে ‘নির্মম নির্যাতন’ চালিয়েছেন, তা কোনোভাবেই চলতে পারে না। এই মন্তব্যটি সরকারের বিচারিক প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

“এই মাজলুম ব্যক্তিত্বের ওপর ফ্যাসিস্ট হাসিনা যে নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে, তা ৩৬ জুলাই পরবর্তী সময়ে কোনোভাবেই চলতে পারে না। হাইকোর্ট দেখানোর রাজনীতি কি শুধু এমন মাজলুমদের জন্যই চলে?”

এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি এটিএম আজহারের প্রতি কথিত ‘নির্মম নির্যাতন’ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার পক্ষপাতিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, বিচারিক প্রক্রিয়া যেন কেবল নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধেই ব্যবহৃত না হয়।

শিবির সভাপতি তার বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেছেন যে, তাদের ধৈর্যশীলতাকে যেন দুর্বলতা হিসেবে গণ্য করা না হয়। তিনি বলেছেন, “আমরা ধৈর্য ধারণ করবো এটা যেমন সত্য, ঠিক তেমনি কোনো অন্যায় ও জুলুম মেনে নিতে পারি না। আমাদের উদারতাকে দুর্বলতা ভাববেন না। মাইন্ড ইট।” এই কথাগুলোর মাধ্যমে জাহিদুল ইসলাম একদিকে যেমন তাদের ধৈর্যশীলতার কথা বলেছেন, তেমনি অন্যদিকে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে তাদের আপসহীন মনোভাবের কথাও স্পষ্ট করেছেন।

এটিএম আজহারের মুক্তি দাবি এবং এই সংক্রান্ত জাহিদুল ইসলামের মন্তব্যগুলো দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। একটি ছাত্র সংগঠনের সভাপতির পক্ষ থেকে এমন সরাসরি এবং কঠোর ভাষায় বিবৃতি প্রদান তাৎপর্যপূর্ণ। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া আসে, তা দেখার বিষয়।