‘গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, বৈষম্যহীন সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থা’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ৪২তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এই সম্মেলন আয়োজিত হয়। দুপুর ১২টায় সম্মেলন শুরুর কথা থাকলেও, অনুষ্ঠান শুরু হয় দুপুর ২টায়। এই সম্মেলন ছাত্র সমাজের অধিকার ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে।
সম্মেলনের উদ্বোধন করেন গত বছরের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়’র মা শামসি আরা জামান। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শহীদদের স্বপ্ন ও আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, সন্তান হত্যার বিচার নিয়ে সরকার তালবাহানা করলে, স্বজনহারা মানুষ ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
উদ্বোধনী বক্তব্য ও দাবি
শামসি আরা জামান তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে যে স্বপ্ন নিয়ে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমেছিল, সেই স্বপ্ন ক্রমশই দূরে সরে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে গণঅভ্যুত্থানের নাম করে একধরনের ব্যবসা শুরু হয়েছে, যার ফলে নির্দোষ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। তার মতে, এটি গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনার পরিপন্থী। এই সময়ে তিনি পান্থকুঞ্জ ও হাতিরঝিল রক্ষা আন্দোলনের দাবিগুলো সরকারিভাবে মেনে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
ছাত্র নেতাদের জোরালো বার্তা
সম্মেলনের প্রস্তুতি পরিষদের আহ্বায়ক তামজীদ হায়দার চঞ্চল তার বক্তব্যে বলেন, গত জুলাই মাসের আন্দোলন এখনও শেষ হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকার যেন স্বাধীনতাবিরোধী ও ধর্মব্যবসায়ীদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে জানান যে, দেশের জনগণ এই আত্মসমর্পণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রাগীব নাঈম তার বক্তব্যে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার পতনের এক বছরও পূর্ণ হয়নি, অথচ সেই গণআকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন থেকে সরকার সরে যাচ্ছে। রাগীব নাঈম আরও উল্লেখ করেন যে, শহীদদের চিকিৎসা, পরিবারকে সহায়তা এবং পুলিশের নির্যাতনের বিষয়ে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা শহীদদের রক্তের সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
বিভিন্ন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের অংশগ্রহণ
এই ৪২তম জাতীয় সম্মেলনের সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল রনি এবং এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি রাগীব নাঈম। সম্মেলনে বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, বাংলাদেশ হরিজন ছাত্র পরিষদ এবং বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতারা অংশগ্রহণ করেন। এই সংগঠনগুলোর নেতারা সম্মেলনে উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রনেতারা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে মতামত তুলে ধরেন এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ছাত্র সমাজের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বৈষম্যহীন সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।