বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের দায়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি তুলেছেন তিনি। শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত একটি চিকিৎসা সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে এসব দাবি জানান রুহুল কবির রিজভী।
এই অনুষ্ঠানে বিএনপি পরিবারের উদ্যোগে চব্বিশের গণআন্দোলনে শহীদ আবদুল্লাহ বিন জাহিদের ক্যানসার আক্রান্ত ছোট ভাই মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়। এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রুহুল কবির রিজভী দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে তার দলের অবস্থান তুলে ধরেন।
ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠাকারীদের গ্রেফতারের আহ্বান
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে যারা দেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জুলাই শহীদদের আত্মার শান্তির জন্য শেখ হাসিনা এবং তার সহযোগীদের বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এই দাবিগুলো তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি উত্থাপন করেন, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও বিচারিক প্রক্রিয়া
রুহুল কবির রিজভী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্তের জন্য সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান। তিনি মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে এবং এর ফলে বর্তমান রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, যেসব নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসাতে সহযোগিতা করেছেন, তাদেরও গ্রেফতার করা উচিত। তার এই বক্তব্য নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
অন্যান্য রাজনৈতিক দাবি
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিও বক্তব্য রাখেন। তিনি তার বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। এ্যানি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য। এই দাবিগুলো দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিদ্যমান তীব্র মতবিরোধকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মীরা রুহুল কবির রিজভী এবং শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির বক্তব্যে সমর্থন জানান। তারা দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এই চিকিৎসা সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানটি কেবল একটি মানবিক উদ্যোগ ছিল না, বরং এটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনৈতিক দাবিসমূহ তুলে ধরার একটি মঞ্চ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে।
এই রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপি তাদের দীর্ঘদিনের মূল দাবিগুলো পুনরায় তুলে ধরেছে, যার মধ্যে রয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন এবং বর্তমান সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন উত্তপ্ত, তখন বিএনপির এই ধরনের কর্মসূচিগুলো জনমনে বিভিন্ন প্রশ্ন ও আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।