বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসন এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, নতুন মেয়ররা দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। শুক্রবার (২৩ মে) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই ঘোষণা দেন।
তার এই ঘোষণার একদিন আগে, বৃহস্পতিবার (২২ মে), হাইকোর্ট একটি রিট আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন। এই রিট আবেদনে ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে ইশরাক হোসেনের মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনগত বাধা থাকলো না।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নগর সেবায় অঙ্গীকার
ফেসবুক পোস্টে ইশরাক হোসেন উল্লেখ করেছেন যে, মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা। তিনি নিজেকে ‘জনতার মেয়র’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন যে, আসন্ন কোরবানির ঈদের আগে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিশ্চিত করা তার নৈতিক দায়িত্ব। তিনি ঢাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ঢাকা উত্তরে নতুন মেয়র দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত সেখানকার প্রশাসন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দায়িত্ব পালনে তিনি সহযোগিতা করবেন।
ঢাকা দক্ষিণের ক্ষেত্রে, ইশরাক হোসেন একটি জোনভিত্তিক মনিটরিং টিম গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এই টিম সাবেক কাউন্সিলর এবং বিগত সিটি নির্বাচনের প্রার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিকালের মধ্যে, অর্থাৎ ১৬ ঘণ্টার মধ্যে, একটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। এই প্রক্রিয়ায় তিনি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সাথে নিজেও মাঠে থেকে কাজ করবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন।
হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ আদেশ
ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে একটি রিট আবেদন হাইকোর্টে দায়ের করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (২২ মে) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে আদেশ প্রদান করেন। এই আদেশের মাধ্যমে রিট আবেদনটি অকার্যকর হয়ে যায়।
হাইকোর্টের এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশের ফলে ইশরাক হোসেনের মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনগত জটিলতা বা বাধা থাকলো না। এই রায় তার জন্য একটি বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে এবং তাকে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের পথ খুলে দিয়েছে। এর আগে, ইশরাক হোসেন সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করে আন্দোলনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন, তবে সেই সময়ে তিনি আন্দোলন আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন।