শুক্রবার (২৩ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদ সভায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির (বিএনপি) চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি প্রশ্ন তুলেছেন যে, কাদের কথায় এখনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। তিনি প্রধান উপদেষ্টার ৯ মাসের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং নির্বাচনের রোডম্যাপ না দেওয়ার কারণ জানতে চান। ফারুক বলেন, দেশের বর্তমান অস্থিরতার জন্য কারা দায়ী এবং কারা নির্বাচন পেছাতে চাইছে, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

জয়নুল আবদিন ফারুক তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রধান উপদেষ্টা পূর্বে জুলাই মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলেছিলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, নির্বাচনের একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ আলোচনার টেবিলে বসতে পারতো। কিন্তু সেই রোডম্যাপ এখনো কেন দেওয়া হয়নি, তা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ফারুক আরও সতর্ক করেন যে, এমন কোনো সংস্কার করা উচিত নয় যা নির্বাচনকে বিলম্বিত করে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তোলে।

নির্বাচন বিলম্ব ও অস্থিরতার কারণ

বিএনপির এই নেতা প্রশ্ন তোলেন, “আপনাকে কেন বসিয়েছিলাম। ৯ মাস আপনি কী করলেন? আপনার না পারার কারণ জানতে চাই? আমরা চাই না আপনার পদত্যাগ। একটি নির্বাচনের রোডম্যাপ দেওয়া হচ্ছে না। কাদের কথায় এখনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলো না।” তিনি আরও বলেন, “এই অস্থিরতার মূল হোতা কারা? কারা নির্বাচন পেছাতে চাচ্ছে।” ফারুকের মতে, একটি স্বচ্ছ রোডম্যাপের অনুপস্থিতিই বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার অন্যতম প্রধান কারণ।

তিনি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন। ফারুক বলেন, “গতকাল আমি সব থেকে মনে কষ্ট পেয়েছি, যে দেশে থাকবে গণতন্ত্র, যে দেশে থাকবে সুষ্ঠু নির্বাচন, সেই দেশে এমন কিছু রাজনৈতিক দল ছিল যারা জনগণের সব আশা নষ্ট করেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে পারিবারিক সম্পদে পরিণত করে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করেছে।” তার এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু দলের বিতর্কিত ভূমিকার প্রতি ইঙ্গিত করে।

উপদেষ্টাদের পদত্যাগের আহ্বান

জয়নুল আবদিন ফারুক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি ব্যক্তিগত ইউনূস নন, আপনি জনগণের। আপনি বলেছেন পদত্যাগ করতে চাই, এসব দেখে আমার মন খারাপ হয়েছে।” তিনি ড. ইউনূসকে দায়িত্ব নিয়ে তিন উপদেষ্টাকে বিদায় করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে, তিনি অবিলম্বে খলিলুর রহমানসহ দুই ছাত্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করার দাবি জানান। ফারুকের এই আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ। তারা জয়নুল আবদিন ফারুকের বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের উদ্বেগ জানান। এই সভাটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান অস্থিরতা এবং নির্বাচনকে ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়।

ফারুক তার বক্তব্যে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) এবং ছাত্রদলের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “গত পরশু দেখলাম দেড়শ লোক নিয়ে এনসিপি নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের জন্য প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। সাম্য হত্যার প্রতিবাদ করে যাচ্ছে ছাত্রদল। সবাই ইউনূস সরকারের কাছে দাবি পেশ করছে।” এই উল্লেখ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের চলমান প্রতিবাদ কর্মসূচির চিত্র তুলে ধরে।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে জয়নুল আবদিন ফারুকের এই বক্তব্য বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং একটি স্বচ্ছ রোডম্যাপ প্রদানের ওপর জোর দিয়েছেন, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।