ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) একজন ছাত্র শাহরিয়ার আলম সাম্যর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছে। মঙ্গলবার (২০ মে) বিকেলে এই অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়, যার ফলে শাহবাগ মোড় এবং এর আশপাশের এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানান।
ছাত্রদলের এই প্রতিবাদ কর্মসূচি সাম্য হত্যার বিচার দাবিতে তাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনেরই অংশ। নেতাকর্মীরা বিকেল ৩টার পর শাহবাগ মোড়ে এসে জড়ো হন এবং শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ শুরু করেন। তাদের এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং সাম্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা। অবরোধ চলাকালে পুরো এলাকায় এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে, তবে ছাত্রদলের সদস্যরা তাদের দাবি আদায়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন।
প্রতিবাদী স্লোগান ও দাবি
অবরোধস্থলে উপস্থিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন, যা তাদের ক্ষোভ এবং ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে। তারা উচ্চস্বরে স্লোগান দেন, যেমন: ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, এবং ‘বিচার চাই বিচার চাই, সাম্য হত্যার বিচার চাই’। এই স্লোগানগুলোর মাধ্যমে তারা স্পষ্ট বার্তা দেন যে, সাম্য হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়, একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না এবং এর সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
যান চলাচলে বিঘ্ন
শাহবাগ মোড় অবরোধের কারণে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এই মোড়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে আশেপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলে। বিশেষ করে অফিস ফেরত মানুষ এবং জরুরি কাজে বের হওয়া ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময় ধরে যানজটে আটকা পড়েন। অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহনগুলোকেও বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হয়, যা তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে বিলম্ব ঘটায়। ছাত্রদলের এই কর্মসূচি সাম্য হত্যার বিচার দাবিতে তাদের দৃঢ় অবস্থানের পাশাপাশি জনজীবনেও তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আশা প্রকাশ করেছে যে, তাদের এই শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তারা বিশ্বাস করে, এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের গ্রেফতারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা সাম্য হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে। এই ঘটনাটি আবারও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।