দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত আগ্রাসন, জাতিগত নিধন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটি ইসরায়েলের এই কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আইন, মানবতা ও মুসলিম বিশ্বের অস্তিত্বের প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম এই আহ্বান জানান। তাদের বিবৃতিতে, ইসরায়েলের ধারাবাহিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানানোর পাশাপাশি ইরানসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করা হয়।

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আগ্রাসন

ছাত্রশিবিরের নেতারা তাদের বিবৃতিতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আগ্রাসী কার্যকলাপ তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন যে, ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে মুসলিম বিশ্বে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এর সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে ১৩ জুন ইরানের রাজধানী তেহরানে পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় একাধিক বিমান হামলার ঘটনাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। এই হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড প্রধান হোসেইন সালামি, সেনাপ্রধান মোহাম্মদ বাগেরি এবং অন্তত ছয়জন পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিহত হন। এছাড়াও, ইসরায়েল সোমবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বোমা হামলা চালিয়ে তিন সাংবাদিককে হত্যা করেছে। এই ঘটনাগুলো ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ধারাবাহিকতার প্রমাণ বহন করে বলে ছাত্রশিবির দাবি করে।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মুসলিম বিশ্বের ভূমিকা

বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের নেতারা জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার ভূমিকার প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা বারবার ইসরায়েলের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধের নিন্দা জানালেও, বাস্তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এই নিষ্ক্রিয়তাকে তারা আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেন। ওআইসি (ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা) এবং আরব লীগসহ মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর নীরবতাকে দখলদার বাহিনীর প্রতি এক ধরনের মৌন সম্মতির প্রকাশ হিসেবে ছাত্রশিবির মনে করে। তাদের মতে, এই নীরবতা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ সংকট তৈরি করতে পারে। সংগঠনটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, মানবাধিকার সংস্থা এবং জাতিসংঘকে ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জোর আহ্বান জানায়।

বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির তাদের বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি একটি সুনির্দিষ্ট আহ্বান জানিয়েছে। তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সকল প্রকার কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক অবিলম্বে ছিন্ন করার দাবি জানায়। ছাত্রশিবিরের নেতারা মনে করেন, এই পদক্ষেপ মুসলিম উম্মাহর ন্যায্য অধিকারের পক্ষে একটি দৃঢ় অবস্থান নিশ্চিত করবে এবং ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতিকে প্রতিহত করতে সহায়ক হবে।

সংগঠনটি ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসন বন্ধে বিশ্বব্যাপী জনমত গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেয়। তারা আশা প্রকাশ করে যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই গুরুতর পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে যাতে নিরীহ মানুষের জীবন রক্ষা পায় এবং আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার সমুন্নত থাকে।