গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, ঐকমত্যের স্বার্থে তারা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এলেও দু-তিনটি রাজনৈতিক দল তাদের অনড় অবস্থানে রয়েছে। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে শতভাগ ঐকমত্য অর্জন কঠিন। তার মতে, ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় একটি নির্দিষ্ট মাপকাঠি নির্ধারণ জরুরি।
রবিবার (২২ জুন) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপের বিরতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নুরুল হক নুর এসব কথা বলেন। তিনি জানান, দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে চলমান আলোচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না—এই প্রস্তাবনাটি আগে থেকেই আলোচনার টেবিলে ছিল। বর্তমানে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (এনসিসি) গঠন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি প্রবর্তন এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে।
ঐকমত্যের পথে চ্যালেঞ্জ
নুরুল হক নুর তার বক্তব্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু নির্দিষ্ট দল তাদের অবস্থানে অনড়, যা সামগ্রিক ঐকমত্য অর্জনের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করছে। তার মতে, একটি কার্যকর ঐকমত্যের জন্য সুস্পষ্ট কাঠামো বা মাপকাঠি থাকা প্রয়োজন, যা আলোচনার গতিপথ নির্ধারণে সাহায্য করবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ছাড় দেওয়ার মানসিকতা না থাকলে দীর্ঘমেয়াদী কোনো রাজনৈতিক সমাধান সম্ভব নয়।
আলোচিত প্রধান প্রস্তাবনা
সংলাপে উত্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না। এই প্রস্তাবনাটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ রোধে সহায়ক হবে। নুর জানান, এটি পূর্ব থেকেই আলোচনার অংশ ছিল। এছাড়াও, জাতীয় নির্বাচন কমিশন (এনসিসি) গঠন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে নির্বাচন এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কারের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। এগুলো দেশের শাসনতান্ত্রিক কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে।
অন্যান্য দলের মন্তব্য
একই সময়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সাংবাদিকদের জানান, তারা সংবিধানকে কীভাবে আরও জবাবদিহিমূলক করা যায় এবং ক্ষমতাকে কীভাবে ভারসাম্যপূর্ণ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি (বিএনপি) পুরো বিষয়টি একটি প্যাকেজ আকারে আলোচনা করতে আগ্রহী। সাইফুল হক আরও জানান, গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাগুলো এখনও বাকি এবং আগামী দুই দিন সংলাপ বিরতি থাকবে। এই বিরতির সময়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলো পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরির চেষ্টা করবে।
এই সংলাপের মাধ্যমে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি বৃহত্তর সমঝোতা তৈরির প্রচেষ্টা চলছে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য জরুরি।