বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গণতান্ত্রিক পন্থায় এগিয়ে যাবে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে জনগণের যে আত্মত্যাগ, সেই পথেই দেশ অগ্রসর হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (১৬ জুন) লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন যে, দেশের জনগণ গত দুই দশক ধরে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। নতুন প্রজন্মও ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। এই পরিস্থিতিতে, তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে উত্তরণ চান। তিনি উল্লেখ করেন, এটিই ছিল তাদের আন্দোলনের মূল প্রত্যাশা এবং এর মাধ্যমেই জাতির মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। গণতন্ত্র ও নির্বাচন সরকারের কি এখন নির্বাচনমুখী কর্মকাণ্ডের দিকে এগিয়ে যাওয়া দরকার আছে, এমন প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দৃঢ়ভাবে বলেন, নির্বাচন ছাড়া গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক এবং জনগণের সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আর কোনো পথ নেই। তিনি জানান, এ বিষয়ে তারা সবাই ঐকমত্য পোষণ করছেন। বিএনপি এত দিন ডিসেম্বরে নির্বাচনের কথা বললেও এখন কেন ফেব্রুয়ারিতে গেলো, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ব্যাখ্যা করেন, নির্বাচনের জন্য ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনেক সময় এবং এতটুকু সময়ও লাগার কোনো কারণ নেই। বিএনপি আগেই ডিসেম্বরের মধ্যেই এসব সমস্যার সমাধান করে নির্বাচনের কথা বলেছে। সুতরাং, ফেব্রুয়ারি আরও দীর্ঘ সময়। তবে যদি ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হয়, তাতেও কোনো সমস্যা নেই বলে তিনি জানান। সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়া প্রধান উপদেষ্টার মতো বিএনপিও রোজার আগে বিচার ও সংস্কারের অগ্রগতি চায় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, সংস্কারের বিষয়টি ঐকমত্যের ওপর নির্ভরশীল। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, এ বিষয়ে ড. ইউনূস, তারেক রহমান এবং বিএনপির সকল নেতা আগেই তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। তার মতে, এই ঐকমত্যে পৌঁছাতে এক থেকে দেড় মাসের বেশি সময় লাগার কথা নয়। বিচার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং বিচার বিভাগের ওপর নির্ভরশীল। বিচার বিভাগ তার নিজস্ব প্রক্রিয়ায় বিচার করবে। যারা বিচারের আওতায় আসবে, তাদের জন্য প্রায় ছয় মাস সময় আছে। যারা এই সময়ের মধ্যে আসবে না, তাদের জন্য আগামী সরকার আছে। তিনি মনে করেন, আগামী সরকারের অনেককেও বিচারের আওতায় আনতে হতে পারে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং বিচার করবে বিচার বিভাগ। তিনি বিশ্বাস করেন না যে এগুলো কোনো সমস্যা। ঐকমত্য ও নিরপেক্ষতা জামায়াত ও এনসিপির অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরকার বিশেষ সম্পর্ক করছে, বিএনপি বিষয়টি কীভাবে দেখছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমি একটা জিনিস মনে করি আমরা যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি তাহলে এখানে সবার মতামত নেওয়ার সুযোগ আছে। সুতরাং সবাই তার মতামত দিতে পারে। আমার মনে হয় এটাই আমাদের গণতন্ত্রের বড় পাওয়া, সবাই তার নিজের মতামত দেনে। এর মধ্যে আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে।" আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "আমি আগেও বলেছি যত বেশি ঐকমত্যের মাধ্যমে আমরা নিজেদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে পারবো সেটা জাতির জন্য তত ভালো। আমরা যে ঐকমত্যের মধ্যে এসেছি এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় বিষয়।" তিনি আরও যোগ করেন, ঐকমত্য থাকার ফলেই তারা স্বৈরাচার ফ্যাসিস্টকে বিদায় করতে পেরেছেন। সুতরাং, তারা চেষ্টা করবেন যেখানেই সম্ভব ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে।