জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বাহাত্তরের সংবিধানের চারটি মূলনীতি বাতিলের পক্ষে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। দলটি ৭২-এর ‘মুজিববাদী’ মূলনীতি রাখার পক্ষে নয় এবং এগুলো বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে, সংবিধান সংস্কার কমিশন কর্তৃক প্রস্তাবিত নতুন মূলনীতিগুলো গ্রহণে তাদের কোনো আপত্তি নেই বলেও এনসিপি উল্লেখ করেছে।

রোববার (২২ জুন) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় ধাপের সংলাপ শেষে এনসিপি নেতারা সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন।

সংবিধানের মূলনীতি নিয়ে এনসিপির অবস্থান

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জাবেদ রাসেল সাংবাদিকদের জানান, সংবিধান সংস্কার কমিশনের একটি প্রস্তাব ছিল যে, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূলনীতি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের সঙ্গে গণতন্ত্রকে যুক্ত করে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ ছিল চারটি মূলনীতি যুক্ত থাকবে, যা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতানৈক্য দেখা গেছে।

“আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, ৭২-এর মুজিববাদী মূলনীতি আমরা রাখার পক্ষে না। এ চারটি মূলনীতি বাদ দিতে হবে। এটি বাদ দিয়ে সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত মূলনীতিগুলো রাখার ক্ষেত্রে আমাদের আপত্তি নেই।”

জাবেদ রাসেল আরও বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল তাদের আদর্শিক জায়গা থেকে এ ব্যাপারে একমত হতে পারেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের অবস্থান স্পষ্ট- ১৯৭২ সালের মূলনীতি আমরা বাতিল চাই। তবে ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে যদি অন্য কোনো শব্দ এখানে আনা হয় অথবা অন্য কোনো মূলনীতির বিষয়েও আমরা ওপেন আছি। কিন্তু আমাদের মূল পয়েন্ট হচ্ছে ৭২-এর চার মূলনীতি বাদ দিতে হবে।”

সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা

বর্তমানে সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার যে চারটি মূলনীতি রয়েছে সেগুলো হলো- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাহাত্তরে প্রণীত সংবিধানে এ চারটি মূলনীতি গৃহীত হয়। সংবিধান সংস্কার কমিশন গত ১৫ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কাছে সুপারিশ-সম্বলিত প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে ‘গণতন্ত্র’ বহাল রেখে রাষ্ট্র পরিচালনার নতুন আরও চারটি মূলনীতির সুপারিশ করা হয়।

কমিশনের সুপারিশ করা নতুন পাঁচটি মূলনীতি হলো- সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র। বর্তমানের চার মূলনীতির মধ্যে শুধু গণতন্ত্র রাখা হয়েছে সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত নতুন পাঁচ মূলনীতির মধ্যে। এনসিপি এই প্রস্তাবিত মূলনীতিগুলো গ্রহণে তাদের সম্মতি জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ প্রসঙ্গে

সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নিয়েও আলোচনা হয়। এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা সাংবাদিকদের জানান, জাতীয় ঐকমত্যের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সংক্রান্ত বিষয়ে ছাড় দিতেও তাদের দল রাজি আছে।

এই সংলাপের মাধ্যমে সংবিধানের মূলনীতি এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে চলমান আলোচনা আরও স্পষ্ট হয়েছে।