জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই সাক্ষাতে তিনি ভূমি অফিসসহ মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন ভোগান্তির সামগ্রিক বিষয় তুলে ধরেন। মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুপুরে সারজিস আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সারজিস আলম তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের যতগুলো উপজেলায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছে, তার সবকটিতেই কয়েকটি সাধারণ সমস্যা বিদ্যমান। এর মধ্যে অন্যতম হলো ভূমি অফিস সংক্রান্ত জটিলতা। তিনি জানান, আর্থিক লেনদেন, সাধারণ জনগণকে হয়রানি, সাব-রেজিস্টার না থাকা এবং জমি-জায়গা সংক্রান্ত পুরোনো কাগজপত্রের বিশাল বোঝা মানুষের সেবা প্রাপ্তিকে দুর্ভোগের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এই বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের জন্য ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি করছে।

ভূমি অফিসের বিদ্যমান সমস্যা

সারজিস আলম তার আলোচনায় ভূমি অফিসের মাঠ পর্যায়ের ভোগান্তির চিত্র বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভূমি অফিসগুলোতে সেবাপ্রার্থীরা প্রায়শই বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হন। বিশেষ করে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রায়শই শোনা যায়। এছাড়া, অনেক উপজেলায় সাব-রেজিস্টার না থাকায় জমি রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কাজ আটকে থাকে, যা সাধারণ মানুষের জন্য দীর্ঘসূত্রিতা ও ভোগান্তির কারণ হয়। পুরোনো জমি-জায়গার কাগজপত্র সংরক্ষণে অব্যবস্থাপনা এবং সেগুলো খুঁজে বের করতে গিয়েও মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই সকল সমস্যা ভূমি সেবাকে জটিল করে তুলেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভূমি অফিসগুলোতে এক ধরনের চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা বিভিন্ন অজুহাতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে। এই সিন্ডিকেটগুলোর দৌরাত্ম্য ভূমি সেবার মানকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। সারজিস আলম এই সকল অনিয়ম বন্ধের উপর জোর দেন এবং একটি স্বচ্ছ ও জনবান্ধব ভূমি সেবা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ ও সারজিস আলমের আহ্বান

ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং ভূমি সচিব সারজিস আলমের উত্থাপিত বিষয়গুলো মনোযোগ সহকারে শোনেন। তারা উভয়েই জানান যে, মাঠ পর্যায়ে ভূমি সেবা থেকে শুরু করে ভূমি সংক্রান্ত সবকিছু অনলাইনভিত্তিক করা হলে এবং দেশের বাইরে থেকে উন্নত প্রযুক্তি এনে সার্ভে ও ম্যাপিং সম্পন্ন করতে পারলে এ সংক্রান্ত সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে। তাদের মতে, এই পদক্ষেপগুলো ভূমি সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ করতে সাহায্য করবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং ভূমি অফিসগুলোতে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটদের দৌরাত্ম্যও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আরও জানান যে, তারা এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ শুরু করেছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদের মধ্যেই এই উদ্যোগের একটি বড় অংশ দৃশ্যমান হবে। সারজিস আলম তার পোস্টে আরও লেখেন যে, উপজেলার ভূমি অফিসগুলোতে টাকার খেলা, দলীয় চাঁদাবাজি এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। তিনি এই সকল অনৈতিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

এই আলোচনা ভূমি সেবার মান উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সারজিস আলমের এই উদ্যোগ ভূমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।