বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, লন্ডনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি দেশের রাজনীতিতে একটি গুণগত পরিবর্তন এনেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই পরিবর্তনকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই, তা যে যা-ই বলুক না কেন। এই মন্তব্যটি তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে গণমাধ্যমকে জানান।

ড. মঈন খানের এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের মানুষ ভোট না দিয়ে থাকতে রাজি নয়, এমনকি না খেয়ে থাকতেও তারা প্রস্তুত। তার মতে, অতীতে অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচন দেশের জনগণ মেনে নেয়নি, যা তাদের ভোটাধিকারের প্রতি গভীর আগ্রহের প্রমাণ।

লন্ডনের বৈঠক ও ড. মঈন খানের মন্তব্য

গত ১৩ জুন লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন যে, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুণগত পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, এই বৈঠকের ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে সহায়ক হবে। ড. মঈন খান আরও বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অত্যন্ত আগ্রহী এবং তারা কোনো অবস্থাতেই তাদের এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে চায় না। তিনি অতীতের নির্বাচনগুলোর উদাহরণ টেনে বলেন যে, জনগণ সেই নির্বাচনগুলোর ফলাফল গ্রহণ করেনি, যা তাদের অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ।

ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ

সোমবার (১৬ জুন) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চেয়ারপারসনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বিশেষ সহযোগী উপদেষ্টা কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠক শেষে ড. মঈন খান গণমাধ্যমকে জানান যে, ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে কীভাবে একসঙ্গে কাজ করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, যুদ্ধ ও সংঘাত থেকে বেরিয়ে এসে একটি শান্তিময় বিশ্ব দেখতে চান। এই আলোচনাগুলো দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোকপাত করে। বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

এই বৈঠক এবং ড. মঈন খানের মন্তব্য দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভোটাধিকারের গুরুত্ব এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শান্তি প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা তার বক্তব্যে উঠে এসেছে।