বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের ইচ্ছামতো দেশের ইতিহাস ও পাঠ্যবই রচনা করেছেন। তিনি এই কর্মকাণ্ডকে দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে আখ্যায়িত করেছেন। রিজভী জোর দিয়ে বলেছেন যে, পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এমনটা সম্ভব হতো না, যা বাংলাদেশে শেখ হাসিনার শাসনামলে ঘটেছে। তার মতে, প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে কেবল তখনই দেশের সঠিক ইতিহাস রচিত হবে এবং বস্তুনিষ্ঠ গবেষণা পরিচালিত হবে। এই গবেষণার ফলাফলই দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়ক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন। এই কর্মসূচিটি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে রিজভী দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি এবং বিএনপির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি দেশের চলমান সংকট এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আরও উল্লেখ করেন যে, দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এবং তা সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য এখনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের সৌধ নির্মাণ করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য এবং এই লক্ষ্য অর্জনে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রিজভী বিশ্বাস করেন যে, গণতন্ত্র বিনির্মাণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন এবং এর সুস্পষ্ট আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, গত ১৬ বছর ধরে শেখ হাসিনার সরকার বিএনপির বিরুদ্ধে ভয়ংকর অপপ্রচার চালিয়ে আসছে এবং এই অপপ্রচার বর্তমানেও অব্যাহত আছে। রিজভী মন্তব্য করেন যে, এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ডা. জুবাইদা রহমানের প্রতি সরকারের আচরণের তীব্র সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশের ফ্যাসিবাদী শাসনের নির্যাতনের হাত থেকে ডা. জুবাইদা রহমানের মতো নির্দোষ মানুষও রেহাই পাননি। তিনি একটি প্রখ্যাত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তার নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। রিজভী ডা. জুবাইদা রহমানকে বিনম্র আন্তরিকতা, রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি আরও বলেন যে, তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।

এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক সিনিয়র সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুমন, সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন এবং সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম রনিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণার পর, উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়ায় অংশ নেন।