ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে চলমান অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার পদত্যাগ দাবি করেছেন। শপথ ভঙ্গের অভিযোগ এনে মঙ্গলবার (১৭ জুন) তিনি এই দাবি জানান। ইশরাক হোসেনের সমর্থকরা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নগর ভবনে তালা ঝুলিয়ে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন, যেখানে তারা ইশরাককে ডিএসসিসির মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানোর দাবি জানাচ্ছেন। নগর ভবনে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে ইশরাক হোসেন বলেন, গত ১৬ জুন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া মন্তব্য করেন যে, শপথগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় গেজেটের মেয়াদ শেষ হওয়ায় শপথ পড়ানো যায়নি। ইশরাক হোসেন এই বক্তব্যকে অসত্য দাবি করে এর সম্ভাব্য গুরুতর পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, যদি এই কথা সত্য হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি আর শপথ পড়ার সুযোগ পাবেন না। শপথ ভঙ্গের অভিযোগ ও তার ব্যাখ্যা ইশরাক হোসেন তার বক্তব্যে ব্যাখ্যা করেন যে, বিজয়ী প্রার্থীর নামে গেজেট প্রকাশিত হলে পরাজিত প্রার্থী অথবা যে কোনো একজন নাগরিক সজিব ভূঁইয়ার মতো একজন ব্যক্তির ইন্ধনে শপথ না পড়ানোর জন্য হাইকোর্ট ডিভিশনে রিট মামলা করতে পারেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, যদি ওই রিট মামলা ৩০ দিন অনিষ্পন্ন থাকে এবং গেজেটে উল্লিখিত ৩০ দিনের মেয়াদ শেষ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কোনো জনপ্রতিনিধি শপথ পড়ার সুযোগ পাবেন না। এই পরিস্থিতিকে তিনি গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে উল্লেখ করেন। বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা রাজনৈতিক ও আর্থিক অন্যায়ভাবে লাভবান হওয়ার জন্য তার পছন্দের একজন ব্যক্তিকে ঢাকা দক্ষিণে প্রশাসক নিয়োগ করে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করেন। ইশরাক হোসেনের মতে, এক্ষেত্রে সজিব ভূঁইয়া দেশের জনগণের ম্যান্ডেট অবজ্ঞা করেছেন। তিনি আরও বলেন যে, সজিব ভূঁইয়া গণতন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অসত্য তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছেন, যা প্রতারণার শামিল। নাগরিক সেবা নিয়ে ইশরাকের বক্তব্য ইশরাক হোসেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার আরেকটি মন্তব্যেরও প্রতিবাদ করেন। উপদেষ্টা উল্লেখ করেছিলেন যে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই অভিযোগের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, তার দৃঢ় বিশ্বাস বয়স এবং অভিজ্ঞতা কম হওয়ার কারণে উপদেষ্টা জানেন না সিটি করপোরেশনের কোন দপ্তরে কি ধরনের সেবামূলক কাজ হয়। তিনি সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন জরুরি সেবার বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, জরুরি সেবার মধ্যে জন্ম-মৃত্যু সনদ, নাগরিক সনদ এবং ওয়ারিশ সনদের কাজ ওয়ার্ড সচিবরা করেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে স্থায়ীভাবে একজন ওয়ার্ড সচিব রয়েছেন। ১-৬ বছরের শিশুদের টিকা দেওয়া, টিকা খাওয়ানোর কাজটি ইপিআই করে থাকে এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে তাদের ওষুধ ও অফিস রয়েছে। মশক নিধনের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ড কার্যালয়ে স্প্রে মেশিন ও ফগার মেশিন রয়েছে। ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার জন্য বর্তমানে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। ইশরাক হোসেন জোর দিয়ে বলেন যে, সিটি করপোরেশনের জরুরি কাজে ব্যাঘাত ঘটলে ১২ ঘণ্টার মধ্যে শহরের কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হতো না, যা প্রমাণ করে নাগরিক সেবা সচল রয়েছে। উপদেষ্টার প্রতি ইশরাকের আহ্বান ইশরাক হোসেন তার বক্তব্যে উপসংহার টেনে বলেন, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বয়সে খুবই তরুণ। সামনে তাকে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। কাজেই জনগণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ এবং আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন তার কাছ থেকে কাম্য। তিনি আরও বলেন যে, অসত্য তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা তার কাজ নয়।