গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর অবিলম্বে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে, তিনি জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের কিছু অংশীদারের সমালোচনা করেছেন, অভিযোগ করে যে বিপদ কেটে যাওয়ার পর তারা ‘জালিম’ হয়ে উঠছেন। এই মন্তব্যগুলো তিনি গত শনিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি সমাবেশে যোগ দিয়ে করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশীদারদের সমালোচনা

নুরুল হক নুর তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, হাদিসে বলা আছে বিপদ কেটে গেলে মানুষ উৎফুল্ল ও আনন্দিত হয়। তবে তিনি বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বলেন,

“আমরা দেখতে পাচ্ছি অভ্যুত্থানের অংশীদাররা উৎফুল্ল হয়ে জালিম হয়ে উঠছেন। তাই বলতে চাই, আল্লাহ পাক কিন্তু ছাড় দেবেন না।”

তার এই মন্তব্য জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং এর সাথে জড়িত বিভিন্ন পক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তন

সরকারের সমালোচনা করে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, গত এগারো মাস ধরে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই। এর ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান, অবিলম্বে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের এই ভোগান্তি লাঘব করা হোক। তার মতে, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন ও জনসেবা ব্যাহত করছে।

জামায়াত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে নুরুল হক নুর বলেন, আপনারা যেহেতু ইসলামের রাজনীতি করেন এবং ইসলামের মূল্যবোধ নিয়ে কথা বলেন, আপনারা জানেন যে আল্লাহ মানুষকে ধন-সম্পদ দিয়ে এবং নিয়ে পরীক্ষা করেন। তিনি আরও বলেন, গত ষোলো বছরে মহান আল্লাহ আমাদের অনেক কিছু নিয়েছিলেন, এবং এর ফলস্বরূপ মহান আল্লাহ আমাদের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান উপহার দিয়েছেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি জামায়াতের আদর্শিক অবস্থানকে গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটের সাথে সংযুক্ত করার চেষ্টা করেন।

সরকারের উদ্দেশ্যে নুরুল হক নুর আরও বলেন, যে পরিবর্তন আমরা পেয়েছি, সেই পরিবর্তনকে টেকসই করার জন্য শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল পরিবর্তন না করে নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হওয়া উচিত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, নির্বাচনের আগে সকল রাজনৈতিক দল যেন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারে, সেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তার মতে, একটি অর্থবহ নির্বাচনের জন্য এই শর্তগুলো অপরিহার্য।

নুরুল হক নুর আরও ঘোষণা করেন যে, সরকার যদি ‘জুলাই সনদ’ দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে অভ্যুত্থানের অংশীজনরা এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকেই ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণা করবেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি এবং গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য পূরণের জন্য একটি বিকল্প কর্মপরিকল্পনার ইঙ্গিত দেন। সামগ্রিকভাবে, তার বক্তব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী পদক্ষেপের উপর গুরুত্বারোপ করে।