অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমানের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে তার ঢাকার বাসভবনে গেছেন। গত রোববার (২০ জুলাই) এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপদেষ্টা ডা. শফিকুর রহমানের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করেন। ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি একটি জাতীয় সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হন।

জানা গেছে, ডা. শফিকুর রহমান গত শনিবার (১৯ জুলাই) রাত ৯টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে তার নিজ বাসভবনে ফেরেন। এর আগে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এক জাতীয় সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি আকস্মিকভাবে অসুস্থ হন। এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন মহল থেকে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়া শুরু হয়।

অসুস্থতার পর বিভিন্ন মহলের খোঁজখবর

ডা. শফিকুর রহমানের অসুস্থতার পর তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে অনেকেই এগিয়ে আসেন। তাৎক্ষণিকভাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হাসপাতালে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

এছাড়াও, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দেশ-বিদেশের বহু নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী জামায়াত আমিরের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন। তারা ডা. শফিকুর রহমানের দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য দোয়া করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টার খোঁজ ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন

এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের অসুস্থতার খবর জানার পর তার খোঁজ নিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা তার প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে হাসপাতালে পাঠিয়েছিলেন ডা. শফিকুর রহমানের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে। এই মানবিক উদ্যোগের জন্য জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান একটি ফেসবুক পোস্টে প্রধান উপদেষ্টাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

উপদেষ্টার সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন যখন ডা. শফিকুর রহমানের ঢাকার বাসভবনে যান, তখন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির ফখরুল ইসলাম এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের মেডিকেল থানা আমির ডা. খালিদুজ্জামান।

এই ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা একে অপরের খোঁজ নিচ্ছেন এবং অসুস্থতার সময় সহানুভূতি প্রকাশ করছেন।