বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু সম্প্রতি আওয়ামী লীগকে একটি সন্ত্রাসী ও বর্বর রাজনৈতিক দল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, পৃথিবীর যেকোনো বৃহৎ শক্তি আওয়ামী লীগকে সমর্থন করুক না কেন, বাংলাদেশের জনগণ তাদের কখনোই ক্ষমা করবে না এবং তাদের আবার ক্ষমতায় আসতে দেবে না। এই পরিস্থিতিতে, তিনি দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ‘অপশক্তিকে’ প্রতিরোধ করার এবং দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে শামসুজ্জামান দুদু এসব মন্তব্য করেন। এই সমাবেশটি আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগীদের দেশ-বিদেশে চলমান ষড়যন্ত্র ও অরাজকতার বিরুদ্ধে আয়োজন করা হয়েছিল।

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ

শামসুজ্জামান দুদু তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগকে একটি অসভ্য ও ফ্যাসিবাদী চরিত্রের রাজনৈতিক দল হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে, তখনই তারা গণতন্ত্রের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। তাদের মুখে এক কথা থাকলেও, বাস্তবে তারা ভিন্ন কাজ করে বলে তিনি দাবি করেন। দুদু আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশে হত্যা, সন্ত্রাস, অপহরণ ও গুমের রাজনীতি আওয়ামী লীগের হাত ধরেই শুরু হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে রক্ষীবাহিনী গঠন করা হয়েছিল এবং সেই সময়ে প্রায় ৪০ হাজার বিরোধী নেতাকর্মী নিহত হয়েছিলেন। একই সময়ে, দেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কারণে লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল গঠন করে সব রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শামসুজ্জামান দুদু দাবি করেন যে, শেখ হাসিনা সেই একদলীয় শাসনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন।

বিএনপির এই নেতা বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনা সীমাহীন লুটপাট করেছেন, যা বিশ্ব ইতিহাসে নজিরবিহীন। বিরোধী মত দমন করার জন্য তিনি গণহত্যা ও গুমের আশ্রয় নিয়েছেন বলে দুদু অভিযোগ করেন। তিনি বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে বলেন যে, তারা আজও ফিরে আসেননি। এছাড়া, ‘আয়নাঘরের’ মতো ভয়ঙ্কর নির্যাতন কেন্দ্র তৈরি করে মানুষ হত্যা করা হয়েছে অথবা বছরের পর বছর ধরে আটক রাখা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের দাবি

শামসুজ্জামান দুদু বর্তমান সরকারের প্রতি একটি সুস্পষ্ট আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে অবশ্যই গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে নিতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই যেন ফেব্রুয়ারি মাস পার হয়ে না যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, নির্বাচন অবশ্যই ফেব্রুয়ারির মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে হবে। তার এই দাবি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই প্রতিবাদ সমাবেশে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’-এর সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন সভাপতিত্ব করেন। সমাবেশে আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মো. ফারুক রহমান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আলমগীর হোসেন, আজাহারুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য নুর আফরোজ জ্যোতি এবং কৃষকদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এস কে সাদী।